ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। এই প্রস্তাবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার সব অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের লক্ষ্য কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান ঘটানো।
রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বার্তা সংস্থা ‘নূর নিউজ’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফার পরিকল্পনার পাল্টা জবাব হিসেবে এই ১৪ দফার প্রস্তাব পেশ করেছে তেহরান।
ইরানের এই নতুন পরিকল্পনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো: ইরানের ওপর থেকে সকল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ-অবরোধের অবসান। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার। লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণসহ সব ধরনের আঞ্চলিক বৈরিতার অবসান ঘটানো। জব্দকৃত অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া।
প্রস্তাবটির দ্বিতীয় ধাপে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর ইরান ‘শূন্য-মজুদ নীতি’ অনুসরণ করে পুনরায় ৩.৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো বা স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার যেকোনো শর্ত তেহরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকে, তবে ইরানও কোনো ধরনের পাল্টা আক্রমণ করবে না। তৃতীয় ধাপে তেহরান আরব প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনার জন্য ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে ওমান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল। বর্তমানে এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।