শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন
Title :
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৫ দিনের আলটিমেটাম রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্য সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের সূচিতে ১০ কর্মসূচি: মাহদী আমিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী মক্কা হামলার অভিযোগ ঘিরে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন সৌদি বাদশাহ জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয়: তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক

‘শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়’ নিয়ে অ্যামনেস্টির সমালোচনা

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩১৭ Time View

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে, তা ন্যায়সঙ্গত বিচারপ্রক্রিয়ার মানদণ্ড পূরণ করেনি।

সোমবার দেওয়া রায়ের পরপরই এক বিস্তারিত বিবৃতিতে এ মত প্রকাশ করে সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্ড বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় যে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছিল, তার প্রকৃত দায়ীদের আইনের মুখোমুখি করতেই হবে। কিন্তু এই মামলায় যে তদন্ত, বিচার ও শাস্তির প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে তা কোনোভাবেই সুষ্ঠু বিচার বলা যায় না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং ‘সবচেয়ে নির্মম ও অপমানজনক শাস্তি’, তাই ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় এর কোনো স্থান নেই।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আন্দোলন–সহিংসতার সময় ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহত হন। এই অস্থিরতার তদন্ত ও বিচার অবশ্যই সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে অ্যামনেস্টি।

কিন্তু তাদের মতে, যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার হয়েছে, সেই আদালত নিয়ে আগেও স্বাধীনতার ঘাটতি ও বিচারকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বলা হয়, মামলার বিচার ‘অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে’ সম্পন্ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা অনুপস্থিত থাকায় আদালত নিযুক্ত আইনজীবীকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়নি। যেসব সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন ছিল, সেগুলোর জেরা করার অনুমতি মেলেনি।

সংস্থাটির মতে, এত উচ্চমাত্রার গুরুত্বসম্পন্ন মামলায় এসব ত্রুটি ন্যায়বিচার নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার রায় ঘোষণা করে।

রায়ের সারসংক্ষেপে দেখা গেছে, শেখ হাসিনার ৫ অভিযোগের মধ্যে ৩টিতে মৃত্যুদণ্ড, ২টিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড, আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন ৫ বছরের কারাদণ্ড (রাজসাক্ষী হিসেবে)।

সংস্থাটি বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতায় নিহত ও আহত মানুষের পরিবার ন্যায়সঙ্গত, নিরপেক্ষ ও সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন বিচার চায়। এমন ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতের আশঙ্কা থাকবে না।

বিবৃতির শেষে অ্যামনেস্টি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অপরাধের ধরণ, পরিস্থিতি বা রাষ্ট্রের পদ্ধতি যাই হোক না কেন, তারা কখনোই মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না, এ নীতিতে কোনো ব্যতিক্রম নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category