বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন

নির্বাচিত হয়েই জাতিসংঘে ৬ দফা প্রস্তাব তুলে ধরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Update Time : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ১০ Time View

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েই বৈশ্বিক সংস্কারের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশ্বমঞ্চে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণেই তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবাধিকার ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ছয় দফার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পেশ করেন।

মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সদস্য দেশগুলোর এই অভূতপূর্ব সমর্থন ও আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

এই ঐতিহাসিক অর্জনের ক্ষণে ড. খলিলুর রহমান তাঁকে এই পদের জন্য মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত থাকা দেশের মানুষ, নিজের টিম এবং বিশ্বজুড়ে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। খলিলুর রহমান বলেন, কাকৌরিস অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুসরণীয় একটি প্রচারণা চালিয়েছেন, যা সদস্য দেশগুলোর জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতি তুলে ধরে নবনির্বাচিত সভাপতি বলেন, জাতিসংঘ যখন নবম দশকে পা রাখছে, ঠিক তখনই সংস্থাটির কার্যকারিতা ও বিশ্বস্ততা বড়সড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ক্রমাগত যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে মানবতা আজ বিপন্ন, ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন এবং বিশ্বজুড়ে লঙ্ঘিত হচ্ছে মৌলিক মানবাধিকার।

তিনি আরও বলেন, আর্থিক সংকট ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সব দেশের সাথে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান- সবখানেই বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান অনন্য। সেই কাজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি আগামী দিনে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার অনুপ্রেরণা পাবেন।

সংঘাত এড়ানো, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেবেন বলে জানান তিনি। সেই সাথে শান্তিরক্ষা মিশনে নারী কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও তিনি কাজ করবেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রাগুলোর খাতা ও বাস্তবতার মধ্যে এখনও বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে পড়া লক্ষ্যগুলো পূরণে কাজ করার কথা জানান তিনি।

উন্নয়ন খাতের তহবিল সংকট দূর করা, বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও শিশুদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য নেওয়া ‘দোহা কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে তাঁর বিশেষ নজর থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category