সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবেই: প্রধানমন্ত্রী

  • Update Time : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৩ Time View

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে তিস্তা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় বিএনপি সবসময় গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে নদীর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট একটি বাস্তবমুখী, ভারসাম্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী বাজেট, যা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে। তিনি জানান, গত তিন মাসে দেশে ৯০০ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে আরও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সরকার বিদ্যমান সংকটকে অস্বীকার করছে না, তবে এটিকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করতে চায় না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় বাস্তব প্রয়োজনের পরিবর্তে ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া বিপুল বৈদেশিক ঋণ এখন দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এসব প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব না আসায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার, ভুল নীতি এবং অপ্রয়োজনীয় দেশি-বিদেশি ঋণের কারণে অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায় এবং টাকার মানও প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়েছিল।

তিনি বলেন, অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং পুঁজিবাজারে অসংখ্য মানুষ তাদের সঞ্চয় হারিয়েছেন। এসব বাস্তবতা স্বীকার করেও সরকার সংকটকে অজুহাত না বানিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলার পথে এগোচ্ছে।

সরকারের মূল দর্শন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই নীতিকে সামনে রেখেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই নিশ্চিত হবে, যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতভাবে পাবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category