মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার ভূমিকা না থাকলে বর্তমানে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকতো না। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ফল।
সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে যুদ্ধমুখী অবস্থান গ্রহণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাব ছিল-এমন অভিযোগ নাকচ করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু আমাকে কোনো ফাঁদে ফেলেননি। সিদ্ধান্তটি আমি নিজেই নিয়েছি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তার উদ্বেগ রয়েছে। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকার দিতে পারি না।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনা করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, তাকে ঘিরে উত্থাপিত এসব বিতর্ক মূলত ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। তার দাবি, এসব সমালোচনার পেছনে বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই বেশি কাজ করছে।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, তার প্রথম মেয়াদকালে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। ওই চুক্তিটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় সম্পাদিত হয়েছিল।
ট্রাম্পের মতে, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হতে পারে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য কোনো হামলার প্রথম লক্ষ্যবস্তু ইসরায়েল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, আমাকে ছাড়া এখন আর ইসরায়েল থাকতো না। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে চলমান আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা