রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা কোনো নির্বাচন কমিশনের পক্ষেই সম্ভব নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইসি যত প্রস্তুতই থাকুক, কোনো পক্ষ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অসহযোগিতা করে, তাহলে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের তৃতীয় দিনের আলোচনার শুরুতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিইসি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবারই জানা। আমরা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। তবে মাঠের খেলোয়াড়রা নিয়ম না মানলে ম্যাচ ভালো হবে না, এটাই বাস্তবতা। তিনি দলগুলোর নেতা-কর্মীদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
সংলাপে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, আচরণবিধি ভঙ্গ করলে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে কমিশন কার্যকরভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।
এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তফসিল ঘোষণার আগেই বিশেষ অভিযান চালানোর সুপারিশ করেন তারা। প্রতিনিধিদের বক্তব্যে উঠে আসে-সহিংসতা-নির্ভর রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে নির্বাচনি পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অর্ধশতাধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে ধাপে ধাপে সংলাপে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সোমবারের আলোচনায় সকালে ছয়টি দল অংশ নেয়- বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)।
বিকেলে সংলাপে বসে আরও ছয়টি দল- জাকের পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।
ইসি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে সব নিবন্ধিত দলকেই আলোচনায় ডাকা হবে।