ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবী করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির।
মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আমিনুল ইসলাম হলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির বলেন, “এ ঘটনায় মামলা কে করবে সেটা আমি বলতে পারব না। আমরা আইন মেনে চলার চেষ্টা করছি। রিপোর্ট দিলে, যে করেছে সে জবাব দেবে। এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি কে কাজটি করেছে। আমরা নিজস্বভাবে তদন্ত করছি। ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এছাড়া ইউজিসি স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর শরীরে থুথু নিক্ষেপ করলে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। রোববার রাত ৯টার পরে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের যেখানেই পেয়েছে, সেখান থেকে জিম্মি করা হয়। পরে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা তাদের বন্ধুদের উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক ভবনে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণের নামে জিম্মি রাখা হয়। এ সময় প্রাণনাশের হুমকি, মিথ্যা জবানবন্দি আদায় ও মিথ্যা মিডিয়া কাভারেজের ঘটনা ঘটেছে।
উপাচার্য আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় বিলম্ব জীবননাশের প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে অস্ত্র রাখার নাটকের কথাও উল্লেখ করলেও মঞ্জুরি কমিশনের হস্তান্তরের সময় সেই অভিযোগ অনুপস্থিত ছিল। এর অর্থ, তারা নিজেই মিথ্যা বলেছিল। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় কোটি টাকা ক্যাশ থাকলেও পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়ে দায়ভার নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো হয়েছে।
উপাচার্য স্পষ্টভাবে বলেন, “শুধু ভাঙচুর নয়, ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার জন্য যথাযথ বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বর্তমানে ছয়জন শিক্ষার্থী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং প্রো ভাইস চ্যান্সেলর মাসুম ইকবাল প্রমুখ।