রোববার (১২ মার্চ) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক বিজনেস সামিটে ‘জাপান-বাংলাশে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট: অপোর্চুনিটিস ইন অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক সেশনে তারা এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অথিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সেশনে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিডার নির্বাহী পরিচালক লোকমান হোসেন, বাংলাদেশে এসইজেড-এর তারু কায়াচি, আসিয়ানের আঞ্চলিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টাকেশি মায়িও প্রমুখ।
প্যানেল আলোচক ছিলেন এফবিসিআই-এর উপদেষ্টা আব্দুল হক, বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান, মিৎসুবিশি কর্পোরেশনের ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার মিয়ং হো লি।
সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় জাপান বাংলাদেশের এক পরীক্ষিত বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী। জাপান উৎপাদনে, যোগাযোগে, অবকাঠামো, ট্রেডিং, আর্থিকখাত, বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগ করেছে। যুব শ্রমশক্তি, ভৌগলিক অবস্থান সব দিক থেকে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এক অনন্য দেশ। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সরকার সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করেছে, এ সুযোগ নিয়ে জাপান বিভিন্ন খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।
জাপানি উদ্যোক্তারা বলেন, আস্থা ও পারস্পরিক বিশ্বাস এবং নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক শিল্পের ৮০ ভাগ হাই-ইফেক্টিভ টেকনোলোজি সল্যুয়েশনে সরবরাহ করে থাকে। ট্রেডিং, উৎপাদনে, প্রযুক্তি, অবাকাঠামো ও মেট্রোরেল, টার্মিনালের মতো বৃহৎ প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগী জাপান।
বক্তারা আরও বলেন, জাপান এতদিন বাংলাদেশের ডিজিটাল অভীষ্ট উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। আগামীতে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণেও কাজ করবে। ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের বাংলাদেশ গঠনে কাজ করবে। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে যথেষ্ট আন্তরিক। বিশেষ করে বিডা বিদেশি বিনিয়োগকারীর সমস্যা সমাধানে সচেতনভাবে কাজ করছে। তবে এখনো ব্যবসা-প্রশাসনে কিছু সমস্যা রয়েছে, যা ব্যবসা বিনিয়োগের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সেগুলো দূর করার জন্য সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।
এফবিসিসিআইয়র উপদেষ্টা আব্দুল হক বলেন, জাপানি বিনিয়োগ অব্যাহত আছে। তারা বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে। তবে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সব প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলো নিয়ে জাপানিদের শঙ্কা আছে। এ সমস্যা দূর করতে পারলে শুধু জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে, এমন না বাংলাদেশের বিনিয়োগও বাড়বে। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সরকরকে এগুলো পরিবর্তন করে বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়, ব্যবসা-প্রশাসন, দুর্নীতি দমন, সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশ যেভাবে করেছে, আমরা সেভাবে করতে পারিনি, পিছিয়ে আছি। জাপান ব্যবসা বাণিজ্যে যে ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করতে পেরেছে, আমাদেরও সে পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে।