মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘অপ্রয়োজনীয় ও অবিবেচনাপ্রসূত’: মির্জা ফখরুল

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৪ Time View

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত গণভোটের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাবটি অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সংবিধানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসংগত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সেলিম রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সময়ের মধ্যে গণভোট আয়োজন সম্ভব নয়। শুধু সময়ের অভাবই নয়, নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনের আগে গণভোটের নামে আরেকটি প্রক্রিয়া চালানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’

তিনি আরও যোগ করেন, একই দিনে বা একই আয়োজনের মধ্যেই যদি জনগণের মতামত নেওয়া হয়, তবে ব্যায় সাশ্রয় ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বজায় রাখা যাবে। আলাদা করে গণভোট আয়োজন জনগণের সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় শক্তির অপচয় ছাড়া কিছু নয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সংবিধান সংশোধন বা জুলাই সনদের বাস্তবায়নের আদেশ জারি করার এখতিয়ার নেই। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘আদেশ’ আইনের মর্যাদা রাখে যা জারি করার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপতির।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এমন এক প্রশাসনিক আদেশ জারি করতে যাচ্ছে, যা সংবিধান লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার  হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ আলোচনা শেষে কমিশন যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে ভিন্নমত ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা করা হয়েছে। এর ফলে কমিশনের কাজ একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট রূপ নিয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদে বেশ কিছু ধারার অঘোষিত পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা দলগুলোর সম্মতির বাইরে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানো সংক্রান্ত বিধান বাতিলের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ছিল, কিন্তু সেটি চূড়ান্ত সনদে রাখা হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” নামে নতুন একটি কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধান ও গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

তার ভাষায়, নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সীমিত। কোনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য নির্বাচন আয়োজনের এখতিয়ার তাদের নেই। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনের সাম্প্রতিক সুপারিশ জাতিকে ঐক্যের পথে নয়, বিভেদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

তিনি বলেন, মনগড়া সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে জাতির সামনে নতুন সংকট তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশের মানুষ আজ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশায় আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো সেই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা, কোনো বিতর্কিত গণভোট নয়।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবে, তবে সেটি যেন জাতিকে বিভক্ত না করে। বিএনপি বিশ্বাস করে সংলাপ ও জনগণের ম্যান্ডেটই হবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি।

জুলাই সনদ এবং ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে ইসলামপন্থী দলগুলো নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজনের দাবি তুলেছে, অন্যদিকে বিএনপি বলছে এই প্রস্তাব সাংবিধানিক ও প্রশাসনিকভাবে অবাস্তব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণভোট বিতর্ক রাজনীতির মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন “সময়, সম্পদ ও প্রশাসনিক সক্ষমতার অপচয়।

তিনি বলেছেন, জুলাই সনদের নামে সংবিধান সংস্কার বা নতুন আদেশ জারি করা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমালঙ্ঘন এবং সরকারের উচিত “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের যে আস্থা ও প্রত্যাশা, তা বিঘ্নিত না করে সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায় সামনে এগিয়ে যাওয়া।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category