মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

এসভিবি মার্কিন ব্যাংকের কর্মীদের এখন কী হবে

  • Update Time : রবিবার, ১২ মার্চ, ২০২৩
  • ২৯৫ Time View

নিয়োগকর্তা ‘বিপদে’ পড়ায় চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের (এসভিবি) কর্মীরা। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠাতা এবং উদ্যোক্তা পুঁজিপতিরাই শুধু এই মুহূর্তে অস্থিরতার সম্মুখীন হচ্ছেন না; সাধারণ কর্মীরাও আছেন বিপাকে। এসভিবি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় তাই স্বাভাবিকভাবে এখন প্রশ্ন উঠছে, প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের এখন কী হবে?

বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বলছে, শুক্রবার (১০ মার্চ) বন্ধ হয়ে যাওয়া এসভিবি এখন নিয়ন্ত্রকদের (এফডিআইসি তথা মার্কিন কংগ্রেসের গঠন করা ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা এখন আর তাদের নিয়োগকর্তার অধীনে নেই।

তবে ব্যাংটির কর্মীরা সংবাদমাধ্যমকে ‘সিইও’র অফিস’ থেকে একটি ই-মেইল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, আগামী ৪৫ দিন তাদের চাকরি বহাল থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে তারা তাদের বর্তমান বেতনের দেড় গুণ টাকা পাবেন।

রয়টার্স বলছে, সপ্তাহান্তে কর্মীদের তালিকাভুক্তি হবে এবং সুবিধাদি সম্পর্কে তথ্য দেয়া হবে বলে জানিয়েছে এফডিআইসি। এছাড়া এসভিবির সাবেক মূল কোম্পানি এসভিবি ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপ (এসআইভিবি.ও) কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেবে।

গত বছরের শেষে এসভিবি’র কর্মী ছিল মোট ৮ হাজার ৫২৮ জন।

এদিকে, এফডিআইসি’র নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ব্যাংটির প্রয়োজনীয় এবং শাখা কর্মচারী ছাড়া অন্য কর্মীদের ‘দূরবর্তীভাবে’ কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি এফডিআইসি কর্তৃপক্ষ।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সবাই যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এফডিআইসির সঙ্গে কাজ করছে।’ এফডিআইসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় এসভিবির প্রধান কার্যালয় এবং ক্যালিফোর্নিয়া ও ম্যাসাচুসেটসে এর ১৭টি শাখা সোমবার (১৩ মার্চ) পুনরায় চালু হবে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রকদের দখলে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে ‘যোগ্য কর্মীদের’ পূর্বনির্ধারিত বার্ষিক বোনাস দিয়েছে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যদিও এ বোনাস সবাইকে দেয়া হয়নি, বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশে কর্মরত।

ক্যালিফোর্নিয়ায় সিলিকন ভ্যালি পরিচিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আঁতুড় ঘর হিসেবে। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন সহজ করতে ১৯৮৩ সালে এখানে টেক স্টার্টআপগুলোতে অর্থায়ন করার লক্ষ্যে বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থাপিত হয় সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিবি)। তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ব্যাংকটি দেউলিয়া হয়ে গেছে। যেভাবে দেউলিয়া হলো সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক 

বিপদের শুরু যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর পর থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সুদহার বাড়ালে তা বিপজ্জনক হয়ে দেখা দেয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য। তাদের পক্ষে বেশি সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কম সুদে বিনিয়োগ করার ফলে মুনাফা কমে আসছিল, কমছিল বিনিয়োগও।

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দেয় প্রযুক্তি খাতে মন্দা। সবমিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক থেকে তাদের মূলধন ‍তুলে নিচ্ছিলেন এবং নতুন বিনিয়োগও হচ্ছিল না। পুরনো যেসব ঋণ ছিল সেগুলোও পুনরুদ্ধার চলছিল ধীর গতিতে। ফলে ব্যবসায় দেখা দেয় মন্দা।

এরই মধ্যে খবর রটে, মূলধন সংকটে ভুগছে এসভিবি। ব্যাংকটি তারল্য (নগদ মুদ্রা) সংকট কাটাতে ২২৫ কোটি ডলার মূলধন জোগাড়ে নেমেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। পরে বুধবার (৮ মার্চ) ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, তারা ২২৫ কোটি ডলার জোগাড় করতে শেয়ার বিক্রি করছে। এ ঘোষণাই এসভিবির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। কারণ, এরপর থেকে গ্রাহকরা ব্যাংকটি থেকে একদিনের মধ্যে ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার তুলে নেয় এবং বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দিনশেষে ব্যাংকটি ৯৫ কোটি ডলার ঋণের কবলে পড়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে শেয়ারবাজারে এসভিবির স্টকের দাম কমতে শুরু করে এবং বিকেলের মধ্যে তা অন্যান্য ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যকেও নিম্নগামী করে ফেলে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আবারও ২০০৭-২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করতে শুরু করেন। তবে তেমনটা ঘটেনি। কিন্তু তাতে এসভিবির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার সকালের মধ্যে এসভিবির শেয়ার লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত মূলধন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও ছেড়ে দেয়। ফলাফল হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্থিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করে বন্ধ করে দেয়।

তবে এসভিবির মতো ব্যাংকের দেউলিয়া হয়ে যাওয়া আবারও যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক সংকট সৃষ্টি করবে কি-না, এমন আশঙ্কার কথাও বলছেন কেউ কেউ। তবে অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, এসভিবির দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা কোনো ডমিনো ইফেক্ট তৈরি করবে না, যাতে অন্যান্য ব্যাংকও প্রভাবিত হতে পারে।

এ বিষয়ে বাজার বিশ্লেষক এড মোয়া বলছেন, ‘এই ব্যাংকটির দেউলিয়া হওয়ার প্রভাব বড় আকারে পড়ার আশঙ্কা কম। তবে ছোট ছোট যেসব ব্যাংক প্রযুক্তি এবং ক্রিপ্টোর মতো শিল্পের সঙ্গে কাজ করছে, তারা কিছুটা খারাপ সময় পার করতে পারে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category