তবে পুলিশকে আবারও বাধা দিয়েছে পিটিআই নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। পিটিআই নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ও জলকামান থেকে পানি ছুড়ছে পুলিশ।
ইসলামাবাদের একটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের নারী বিচারককে হুমকি দেয়ার অভিযোগে হওয়া এক মামলায় সোমবার (১৩ মার্চ) ইমরান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত বছরের ২০ আগস্ট এক জনসভায় বিচারক জেবা চৌধুরীকে হুমকি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলার দায়ে ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
সোমবার সেই মামলার শুনানি শেষে ৩ পৃষ্ঠার একটি রায় প্রকাশ করেন বিচারপতি রানা মুজাহিদ। রায়ে ইমরান খান বারবার আদালতের আদেশ অমান্য করে শুনানির সময় উপস্থিত না থাকার কারণে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ডনের প্রতিবেদন মতে, মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরের পরই ইমরান খানকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি লাহোরে তার জামান পার্ক বাসভবনের সামনে এসে পৌঁছায়। তবে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেয় পিটিআই’র হাজার হাজার নেতাকর্মী।
ঘণ্টা খানেক পর ইমরান খানের কর্মী-সমর্থকদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার শুরু করে পুলিশ। পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়ে পিটিআই কর্মীরা। ফলে শুরু হয় সংঘর্ষ যা এখনও চলমান রয়েছে।
ইসলামাবাদ পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সৈয়দ শেহজাদ নাদিম বুখারি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা ইমরান খানকে গ্রেফতার করতে এসেছেন। তার কথায় ‘আমরা এখানে ওয়ারেন্ট নিয়ে ইমরান খানকে গ্রেফতার করতে এসেছি।’
এমন পরিস্থিতিতে দলের কর্মী-সমর্থকদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইমরান খান। সন্ধ্যায় টুইটারে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে এসেছে। তারা ভাবছে, আমাকে গ্রেফতার করলেই জাতি ঘুমিয়ে পড়বে। আপনারা বেরিয়ে আসুন। তাদের এ ধারনা ভুল প্রমাণ করতে হবে।’
এদিকে পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের পর জামান পার্কের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন পিটিআই নেতা শাহ মাহমুদ কুরেশি। এ সময় পুলিশকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন।
তার কথায়, ‘আমার কাছে আসুন এবং কথা বলুন। আপনাদের কি নির্দেশ দেয়া হয়েছে? আমাকে ওয়ারেন্ট দেখান। আমি সেটা পড়ে আমাদের চেয়ারম্যানের (ইমরান খান) সঙ্গে কথা বলব এবং আমাদের আইনজীবীর সঙ্গেও বিষয়টি আলাপ করব।’