জেফরি এপস্টেইনের সেই কুখ্যাত ব্যক্তিগত দ্বীপ এবং তাঁর রহস্যময় জীবন নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নথিপত্র প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এবারের প্রকাশনায় রয়েছে প্রায় ৩০ লাখের বেশি লিখিত পৃষ্ঠা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজারেরও বেশি ভিডিও ফুটেজ। এসব নথিতে উঠে এসেছে কীভাবে বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা এপস্টেইনের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ কতটা গভীর ছিল।
প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ স্বীকার করেছেন যে ট্রাম্প এক সময় এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। এফবিআই-এর তৈরি করা একটি তালিকায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আসা বেশ কিছু যৌন নিপীড়নের অভিযোগের বিবরণ রয়েছে। তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে এর মধ্যে অনেক অভিযোগই ২০২০ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে জমা দেওয়া হয়েছিল যা অতিরঞ্জিত এবং ভিত্তিহীন মনে হয়েছে তদন্তকারীদের কাছে।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সাবেক আইনজীবী টড ব্লাঞ্চ জোর দিয়ে বলেছেন যে এসব নথি পর্যালোচনায় হোয়াইট হাউস কোনো প্রভাব খাটায়নি এবং কোনো তথ্য কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়নি। তবে ট্রাম্প বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অপরাধমূলক অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে নিয়ে নথিতে একটি খসড়া ই-মেইল পাওয়া গেছে। সেখানে এপস্টেইন দাবি করেছেন যে রুশ মেয়েদের সঙ্গে গেটসের যৌন সম্পর্ক এবং অন্যান্য বিবাহবহির্ভূত অবৈধ সম্পর্কের সুযোগ তৈরি করে দিতে তিনি কাজ করেছিলেন। এই তথ্যগুলো গেটসের ব্যক্তিগত জীবনের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
অন্যদিকে ধনকুবের ইলন মাস্ক ও এপস্টেইনের মধ্যে ২০১২ সালের কিছু ই-মেইল আদান-প্রদানের তথ্য ফাঁস হয়েছে। একটি মেইলে এপস্টেইন মাস্ককে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে হেলিকপ্টারে করে তাঁর ব্যক্তিগত দ্বীপে কতজন অতিথি আসবেন। মাস্ক জবাবে জানিয়েছিলেন যে সম্ভবত তিনি এবং তাঁর তৎকালীন সঙ্গী তালুলাহ রিলে সেখানে যাবেন। ওই মেইলে মাস্ক কৌতুকভরে জিজ্ঞেস করেছিলেন আপনার দ্বীপে সবচেয়ে উন্মত্ত পার্টি কোন রাতে হবে।
যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু এবং এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ আবারও মিলেছে। ২০১০ সালে অ্যান্ড্রু এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন।
ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসনের একটি ই-মেইল প্রকাশ পেয়েছে যেখানে তিনি এপস্টেইনকে তাঁর সঙ্গিনী নারীদের নিয়ে দেখা করতে আসার আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্পের বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ও তাঁর স্ত্রী ২০১২ সালে এপস্টেইনের দ্বীপে দুপুরের খাবার খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে ই-মেইলে তথ্য পাওয়া গেছে।
নথিগুলো প্রকাশের সময় বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে নাম থাকলেই কেউ অপরাধী নন। তবে এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার প্রমাণ করে যে এপস্টেইন কীভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি জালে আটকে ফেলেছিলেন।
ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই তথ্যগুলো প্রকাশ করার যাতে পর্দার আড়ালের সত্য বেরিয়ে আসে। এই নথিপত্রে মোট ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও রয়েছে যেখানে প্রধান আলোচিত নাম হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল গেটস, ইলন মাস্ক, রিচার্ড ব্র্যানসন ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম উঠে এসেছে। ব্যক্তিগত দ্বীপে যাতায়াত এবং গোপন ই-মেইল আদান-প্রদানই এখন বিশ্বজুড়ে প্রধান বিতর্কের বিষয়।