২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিসরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ইরান। যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেও অতি সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হওয়ায় শেষ ষোলোতে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে দলটির। এখন নকআউট পর্বে যেতে হলে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটির একটি হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করতে হবে ইরানকে।
ম্যাচ শেষে ফলাফলের হতাশার পাশাপাশি বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইরানের তারকা ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। তিনি ফিফা ও সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে বলেন, এই বিশ্বকাপ আয়োজনের শুরু থেকেই নানা সমস্যা ছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনো কার্যকর সমাধান করা হয়নি।
তারেমি জানান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো ইরানের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটি তো কেবল শুরু।’ কিন্তু গ্রুপ পর্ব শেষ হলেও বাস্তব পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলেই দাবি করেন তিনি।
ইরানি এই ফরোয়ার্ডের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ভিসা না পাওয়ায় দলের লজিস্টিক ও পুনর্বাসন–সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কর্মীরা বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। তার ভাষায়, একটি পেশাদার দলের জন্য এমন পরিস্থিতি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
শুধু তাই নয়, প্রতিটি ম্যাচের পর দলকে বারবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হওয়ায় খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মেক্সিকো ও তিহুয়ানার মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারেমি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এমন দীর্ঘ ভ্রমণ কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয় এবং এটি তাদের প্রতি অন্যায্য আচরণ বলে মনে হয়েছে।
নিজেদের অভিযোগ বারবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন ইরানের এই তারকা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যদি ফিফা সত্যিই চায় আমরা বিদায় নিই, তাহলে সেটাই হোক। কিন্তু অন্তত আমাদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা উচিত ছিল।’
ইরানকে এই বিশ্বকাপে অবাঞ্ছিত মনে করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তারেমি বলেন, টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিটি মুহূর্তে নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে তাদের। তার মতে, কখনো কখনো এমন মনে হয়েছে যেন ইরানকে ইচ্ছাকৃতভাবেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলা হচ্ছে। ৯০ মিনিটের ম্যাচ শেষে বারবার তিহুয়ানায় ফিরে যাওয়ার বাধ্যবাধকতাও সেই অনুভূতিকে আরও জোরালো করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।