রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
Title :
ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সরকারকে ভূমিকা নিতে হবে: সংসদে পার্থ বিএনপি জুলাই সনদকে কলঙ্কিত করেছে: মামুনুল হক হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা ২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে ফিফা যদি সত্যিই চায় আমরা বিদায় নিই, তাহলে সেটাই হোক: ইরানের ফুটবলার বাংলাদেশ ও চীন অর্থনৈতিক করিডোর বিবেচনায় রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়: কেপ ভার্দে কোচ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ইতিহাসও মনে রাখতে হবে: বিরোধী দলকে জয়নুল আবদিন এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর ফতোয়ার জন্য এখন আর মাদ্রাসায় যেতে হয় না, সংসদেই দেওয়া হয়: জামায়াতের এমপি

উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ বেশি প্রভাবশালী: টিআইবি

  • Update Time : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০৭ Time View

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ অংশ বর্তমানে অধিকতর প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর মতে, সরকার অনেক ক্ষেত্রে অংশীজনদের পাশ কাটিয়ে এবং জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করছে, যা মূলত আমলাতান্ত্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং কর্তৃত্ববাদী চর্চাকেই দীর্ঘস্থায়ী করছে।

সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কারবিমুখতা শীর্ষক একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সরকারের নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ কোন কাগজে স্বাক্ষর করবে বা কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, সেটি অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা নিজেরা নির্ধারণ করতে পারেন না। আমলাতন্ত্রের ভেতরে থাকা অত্যন্ত ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা পর্দার আড়াল থেকে এসব সিদ্ধান্তের গতিপথ ঠিক করে দেন।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছে, তার প্রায় সব ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী মহলের অন্তর্ঘাতমূলক অপশক্তির কাছে সরকার নতিস্বীকার করেছে। এর ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের যে মূল লক্ষ্য নিয়ে এই সরকার গঠিত হয়েছিল, তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আইন বা অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণের সম্পৃক্ততা ও স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকার একতরফাভাবে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লোকদেখানোভাবে খসড়া অধ্যাদেশ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলেও অংশীজনদের মতামত বা প্রস্তাবনাগুলো কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই অবজ্ঞা করা হচ্ছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে অংশীজনরা আলোচনার সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের সুপারিশগুলো রাখা হয়নি। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণকারী অংশীজনদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে অপপ্রচার চালানোর মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে।

টিআইবির মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সাইবার সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর প্রতিটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে গৌণ করে দেখা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশে আমলাতন্ত্রসহ ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র ও জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ব চর্চার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, এই পদ্ধতিগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে পুরোনো শাসনব্যবস্থার সেই অন্ধকার ছায়া থেকে সরকার বের হতে পারছে না। বরং নতুন আবরণে পুরোনো কর্তৃত্ববাদী কাঠামোগুলোকেই সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

সরকার কেন আমলাতন্ত্রের কাছে নতিস্বীকার করছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে টিআইবি প্রধান বলেন, এর সুনির্দিষ্ট উত্তর সরকারের কাছে থাকা উচিত। তবে আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, কোন সিদ্ধান্তে কোন উপাদান থাকবে তা আমলারা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। এখানে শুধু আমলাদের গোষ্ঠীস্বার্থ নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থের প্রতিফলনও ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা ও স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সরকার জনআস্থার পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা এখন ম্লান হতে বসেছে।

টিআইবি মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত অবিলম্বে আমলাতান্ত্রিক বলয় থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারের অংশীজনভিত্তিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া। ড. ইফতেখারুজ্জামান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আমলাতন্ত্রের এই প্রভাবশালী অংশটিকে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না আনা হয়, তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্নটি অধরাই থেকে যাবে।

টিআইবি’র পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, আমলাতন্ত্রের প্রভাবে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা খর্ব হচ্ছে, অংশীজনদের মতামত ছাড়াই একতরফা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ কমিশনের মতো সংস্থায় ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টা চলছে যা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category