রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
Title :
ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সরকারকে ভূমিকা নিতে হবে: সংসদে পার্থ বিএনপি জুলাই সনদকে কলঙ্কিত করেছে: মামুনুল হক হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা ২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে ফিফা যদি সত্যিই চায় আমরা বিদায় নিই, তাহলে সেটাই হোক: ইরানের ফুটবলার বাংলাদেশ ও চীন অর্থনৈতিক করিডোর বিবেচনায় রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়: কেপ ভার্দে কোচ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ইতিহাসও মনে রাখতে হবে: বিরোধী দলকে জয়নুল আবদিন এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর ফতোয়ার জন্য এখন আর মাদ্রাসায় যেতে হয় না, সংসদেই দেওয়া হয়: জামায়াতের এমপি

৭১-এর মুক্তি ও ২৪-এর সুরক্ষা একই ধারার: তারেক রহমান

  • Update Time : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২১ Time View

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে একই সূত্রে গেঁথেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ঘোষণা করেছেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি যদি আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের পরিবারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক পূর্ণাঙ্গ বিভাগ খোলা হবে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের আহাজারি এবং আহতদের কষ্টের কথা শুনে একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তারেক রহমান।তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সেতুবন্ধন তৈরি করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ জীবন দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জনের জন্য। আর ২০২৪ সালে মানুষ অকাতরে রক্ত দিয়েছেন সেই অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য। সুতরাং যারা ৭১-এ জীবন দিয়েছেন আর যারা ২৪-এ লড়াই করেছেন, তারা একই ধারার যোদ্ধা।

তিনি আরও বলেন, ৭১ ছিল অর্জনের বছর, আর ২৪ হলো রক্ষার বছর। এ দুই সময়ের যোদ্ধাদের ত্যাগ সমান্তরাল। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার এ আন্দোলনকে যারা ছোট করে দেখে বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের জন্য বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আপনারা যখন নিজেদের দীর্ঘশ্বাস ও ত্যাগের কথা বলছিলেন, তখন আমি এবং আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাহেব একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিএনপি যখন অতীতে ক্ষমতায় ছিল, তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের জন্য ওই মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা বিভাগ তৈরি করব। এ বিভাগের কাজ হবে শহীদদের পরিবারের নিয়মিত দেখাশোনা করা, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করা।

তিনি বলেন, যাকে আমরা হারিয়েছি, তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা বেঁচে আছেন, তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। কারণ রাষ্ট্র তাদের কাছে ঋণী।

গত দেড় দশকের দুঃশাসন এবং জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। কয়েকশ মানুষ তাদের এক বা দুই চোখ হারিয়েছেন, অনেকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন। যেভাবে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, তাকে এক কথায় গণহত্যা বলা যায়।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এ আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। এখানে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল, তেমনি ছিল মাদ্রাসা ছাত্র, দিনমজুর, রিকশাচালক, গাড়িচালক ও শিশু।

তিনি ৬ বছরের শিশু রিয়া এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের নাম উল্লেখ করে বলেন, এরা সবাই স্বাধীনতাকামী এবং গণতান্ত্রিক মানুষ। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা মুক্ত বাতাসে কথা বলছি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেন তারেক রহমান। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা যদি একটি নিরাপদ, ইনসাফভিত্তিক এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হই, তবে ভবিষ্যতেও আমাদের এভাবেই শোকসভা করতে হবে। আমাদের এখন শোককে শক্তিতে পরিণত করে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করতে হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষকে সজাগ থাকতে হবে যাতে এ বিশাল আন্দোলনের ফসল কোনো অপশক্তির হাতে না যায়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিজয় অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

সংলাপ চলাকালে শহীদ পরিবারের সদস্যরা যখন তাদের স্বজন হারানোর গল্প বলছিলেন, তখন মিলনায়তনে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়লে তারেক রহমানকেও অশ্রুসজল চোখে দেখা যায়। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এ সময় তার পাশেই ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে বলেন, তারেক রহমান সবসময় শহীদ পরিবারের খোঁজ রাখছেন। আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এ ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করব, এটি কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এ ঘোষণাটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন বিভাগ খোলার প্রস্তাবের মাধ্যমে তিনি ২০২৪ এর আন্দোলনকে একটি রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দিতে চাইছেন। এটি একদিকে যেমন তরুণ প্রজন্মের কাছে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের মুক্তিযুদ্ধের একক দাবিদার হওয়ার বয়ানকেও চ্যালেঞ্জ করবে। এছাড়া তারেক রহমানের বক্তব্যে রাজনৈতিক দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে জাতীয় ঐক্যের যে সুর ফুটে উঠেছে, তা বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভাটি কেবল একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এক দৃঢ় অঙ্গীকার।

তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ, যেখানে মানুষের নাগরিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি হবে মূল ভিত্তি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category