রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
Title :
ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সরকারকে ভূমিকা নিতে হবে: সংসদে পার্থ বিএনপি জুলাই সনদকে কলঙ্কিত করেছে: মামুনুল হক হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা ২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে ফিফা যদি সত্যিই চায় আমরা বিদায় নিই, তাহলে সেটাই হোক: ইরানের ফুটবলার বাংলাদেশ ও চীন অর্থনৈতিক করিডোর বিবেচনায় রয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়: কেপ ভার্দে কোচ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ইতিহাসও মনে রাখতে হবে: বিরোধী দলকে জয়নুল আবদিন এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর ফতোয়ার জন্য এখন আর মাদ্রাসায় যেতে হয় না, সংসদেই দেওয়া হয়: জামায়াতের এমপি

২৭০ আসনে অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দিচ্ছে এনসিপি, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে অভিনব কৌশল

  • Update Time : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০৪ Time View

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে এক ব্যতিক্রমী সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে ২৭০টি সংসদীয় আসনে তাদের কোনো দলীয় প্রার্থী নেই, সেই আসনগুলোতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নের পক্ষে জোরালো প্রচার চালাতে বিশেষ প্রতিনিধি বা অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেওয়া হবে।

রোববার দুপুরে দলটির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহাবুব আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পরিকল্পনার কথা জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কৌশলের মাধ্যমে এনসিপি একদিকে যেমন রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনমত গড়বে, অন্যদিকে সারা দেশে তাদের সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেবে। গণভোটকে সফল করতে তারা দুই ধরনের কর্মপদ্ধতি হাতে নিয়েছে।

এনসিপি যে ৩০টি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরাই প্রচারণার মূল নেতৃত্বে থাকবেন এবং তারা সংসদীয় আসনের ভোটের প্রচারের পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরবেন।

অন্যদিকে বাকি ২৭০টি আসনে যেখানে এনসিপির সরাসরি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, সেখানে অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেওয়া হবে যারা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপির রাজনৈতিক দর্শন এবং গণভোটের গুরুত্ব নিয়ে কাজ করবেন।

এনসিপির দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, অনেকে মনে করছেন ২৭০ আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় এনসিপি সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে আছে, এই ধারণাটি ভুল প্রমাণ করতেই তারা অ্যাম্বাসেডর মডেলটি এনেছেন। এর ফলে প্রতিটি আসনেই দলটির প্রতিনিধি থাকবে, যারা ভোটারদের কাছে কেবল ভোট চাইবেন না বরং কেন জুলাই সনদ গ্রহণ করা জরুরি এবং কেন সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রয়োজন তা ব্যাখ্যা করবেন। শিগগিরই এই ২৭০ জন প্রতিনিধির তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তারা দেশব্যাপী একটি সমন্বিত প্রচার অভিযানে নামবেন।

এনসিপি শুরু থেকেই ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার দাবি করে আসছে। তাদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট হলো সেই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া। বিজ্ঞপ্তিতে মাহাবুব আলম বলেন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে এনসিপি সারা দেশে একটি সর্বব্যাপী প্রচার নিশ্চিত করতে চায়, প্রার্থী থাকা কিংবা না থাকা সব আসনেই জনগণের কাছে দলের বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

নিযুক্ত প্রতিনিধিরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবেন এবং তারা বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও অভ্যুত্থানে সক্রিয় কর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করবেন। স্থানীয় হাট বাজার ও পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার কেন অপরিহার্য তা তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দল ৩০০ আসনের সবগুলোতে প্রার্থী না দিয়েও প্রতিটি আসনে প্রতিনিধি পাঠিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ইস্যুর পক্ষে কাজ করার ঘটনা বিরল। এনসিপির এই পদক্ষেপ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও নতুন একটি নজির স্থাপন করল। যদি এই ২৭০ জন প্রতিনিধি সফলভাবে কাজ করতে পারেন, তবে নির্বাচনের পর এনসিপি একটি শক্তিশালী জাতীয় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে বলে দলটির নীতিনির্ধারকরা আশাবাদী।

এনসিপির নির্বাচনী পরিকল্পনার মূল বৈশিষ্ট্য হলো মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ৩০টি আসনে প্রার্থী থাকবে এবং বাকি ২৭০টি আসনে অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দেওয়া হবে যাদের মূল লক্ষ্য ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category