বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে অবহেলিত ও দরিদ্র করে রাখা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা সদরের চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি আজ এখানে বক্তৃতা দিতে আসিনি, সাক্ষী দিতে এসেছি। উত্তরবঙ্গ আমাদের কলিজার অংশ, অথচ ইচ্ছে করেই একে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট।
শিল্প ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার উত্তরাঞ্চলকে ‘শিল্পের রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আমরা এই অঞ্চলে কোনো বেকার যুবক দেখতে চাই না। প্রতিটি নাগরিকের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং যুবসমাজের হাতকে শক্তিশালী করা হবে।
লুটপাটের টাকা উদ্ধারের হুঁশিয়ারি চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ সুযোগ দিলে প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। বাজেটের অর্থের উৎস প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ২৮ লাখ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, তাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে। সেই টাকা দিয়েই জনগণের উন্নয়ন হবে।
তৃণমূলের শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের কোনো বিশেষ কার্ড নেই; জনগণই আমাদের শক্তি, আপনারাই আমাদের কার্ড। এতদিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত আওয়াজ উঠলেও তাতে ভারসাম্য ছিল না। এবার আমরা স্লোগান দেবো তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই বসন্তের কোকিলের মতো উড়ে এসে জুড়ে বসে। কিন্তু আমরা দুঃখ-কষ্টের সময় দেশবাসীকে ফেলে কোথাও যাইনি। ১২ তারিখে বিজয় ছিনিয়ে আনা পর্যন্ত আমাদের কাজ চলবে। কোনো পুরোনো দুর্বৃত্ত যেন নতুন পোশাকে ফিরে আসতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।