নোয়াখালীর ঐতিহাসিক জিলা স্কুল মাঠে আজ এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন।
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত এ বিশাল সমাবেশে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এখনো ক্ষমতায় বসেনি অথচ এখনই চাঁদাবাজি ও অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে, তাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ এবং জনগণের নিরাপত্তা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই এক শ্রেণির মানুষের কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। যারা এখন থেকেই চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে, তারা যদি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পায়, তবে দেশের জনগণের অবস্থা আরও ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিকে নিজেদের আখের গোছানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং গণভোট নিয়ে জামায়াত আমির স্পষ্ট ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, আমরা সাড়ে ১৫ বছরের সে দুঃশাসনের কালিমালিপ্ত দিনগুলোতে আর ফিরে যেতে চাই না। ১২ তারিখের ভোট হবে মূলত সংস্কারের পক্ষে। মনে রাখবেন, হ্যাঁ ভোট দেওয়া মানে হলো আজাদি বা স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আর না ভোট মানে পুনরায় গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ হওয়া। তিনি দেশবাসীকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর ওপর চালানো নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, গত দেড় দশকে সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ঠান্ডা মাথায় বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর আমাদের কার্যালয়গুলো সিলগালা ছিল।
তবে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, আমাদের হাজার হাজার কর্মীকে মিথ্যা মামলায় নাজেহাল করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় গিয়ে আপনাদের ওপর বা অন্য কারো ওপর কোনো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করব না। আমরা মামলা বাণিজ্য করি না এবং আপনাদের সাক্ষী দিচ্ছি, আমাদের সহকর্মীদের দ্বারা দেশের কোনো মানুষের ক্ষতি হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।
দেশের নারী সমাজের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির এক বিশেষ বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, মায়েরা এবং বোনেরা আজ বুঝতে পেরেছেন কার কাছে তাদের ইজ্জত ও জীবন নিরাপদ। যদি আল্লাহ আপনাদের ভালোবাসায় আমাদের দেশসেবার সুযোগ দেন, তবে আমরা কথা দিচ্ছি, আমাদের যোগ্যতা উজাড় করে আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেব। প্রতিটি নারী তার ঘর, রাস্তাঘাট এবং কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা ভোগ করবেন।
শফিকুর রহমান দাবি করেন, বর্তমানে সারা বাংলাদেশে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের পক্ষে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কেবল নোয়াখালীর দৃশ্য নয়, আমরা দেশের যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই সাধারণ মানুষের বাঁধভাঙা ভালোবাসা ও সমর্থন পাচ্ছি। জনগণ এখন একটি আমূল পরিবর্তন চায়।
নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াত আমির ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জোটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।
নোয়াখালী-১, ২, ৩, ৫ এবং ৬ আসনের প্রার্থীরা তাদের বক্তব্যে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভাটি সঞ্চালনা করেন মো. বোরহান উদ্দিন।