বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা প্রসঙ্গে অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, সংস্কার প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়ন ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমমনা দল হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে এই নির্বাচনী সমঝোতা করা হয়েছে।রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, “ঐকমত্য কমিশন যে সংস্কার প্রস্তাব রেখেছে, সেগুলো এককভাবে বাস্তবায়ন করা এনসিপির পক্ষে সম্ভব নয়। যেহেতু এনসিপি ও জামায়াত সংস্কার প্রশ্নে একই মনোভাব পোষণ করে, তাই বিচার বিভাগীয় সংস্কার ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে আমরা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে চাই।”
দলের একাধিক নেতার পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি আমাদের আহত করেছে। তবে তাঁদের পদত্যাগপত্র এখনো অফিশিয়ালি গ্রহণ করা হয়নি এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ওসমান হাদীকে হত্যার ঘটনা এনসিপির উপলব্ধিতে বড় পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনসিপি তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত।
নির্বাচনী আসন বিন্যাস নিয়ে আখতার হোসেন জানান, আসন বণ্টনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন যে এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়, বরং একটি নির্বাচনী সমঝোতা মাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখছে না। এছাড়া রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিতে কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আসতে দেওয়াকে ‘স্বৈরাচার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এজেন্সির খেলা’ বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।