দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ থেকে ১২০টি সোনার বার জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার করা এসব সোনার মোট ওজন ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
শনিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে এই সোনা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের সহকারী কারিগরি সহকারী মো. সোয়েব গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের বিমান বাংলাদেশ নদীর একটি ফ্লাইটে সোনা পাচারের খবর পায় ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রতিরোধ দল। খবর পেয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা প্রতিনিধিরা দ্রুত ওই উড়োজাহাজে অবস্থান নেন।
উড়োজাহাজ পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে বের হওয়ার সময় বিমানের যান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দলের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নুর ইসলামের সহযোগিতায় তাঁদের তল্লাশি করা হলে বিমানের সহকারী কারিগরি সহকারী সোয়েব গাজীর কোমর থেকে বিশেষ কৌশলে লুকানো কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে কাস্টমস হাউসে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কালো আঠালো ফিতায় পেঁচানো প্যাকেটগুলো খুলে ১২০টি সোনার বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ গ্রাম।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব সোনা দেশে এনে বিমানবন্দরের বাইরে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা সাময়িকভাবে কাস্টমসের মূল্যবান পণ্য সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে এবং বিধি অনুযায়ী তা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার সঙ্গে এয়ারলাইন্স বা বিমানবন্দরের আর কোনো চক্র যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে।