সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

  • Update Time : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ২ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। ফলে ফেড সুদের হার আরও বাড়াতে পারে-এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে কিছুটা সরে আসছেন।

সোমবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ১১টা ৪২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৪২ মিনিট) স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়ায়।

এর আগে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল। জুন মাসজুড়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ১০ শতাংশের বেশি কমার পথে রয়েছে। এমনটি হলে টানা চতুর্থ মাসের মতো স্বর্ণের দাম কমার রেকর্ড হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি না মানলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

বাজার বিশ্লেষক রিকার্ডো এভানজেলিস্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা স্বর্ণের বাজারে চাপ তৈরি করছে। তার ভাষ্য, উত্তেজনা আরও বাড়লে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর মুদ্রানীতির সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় এর আকর্ষণ কমে যায়। বর্তমানে বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে ফেড তিন দফা সুদের হার বাড়াতে পারে। ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬১ শতাংশ।

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং নন-ফার্ম পে-রোল তথ্যের দিকে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

রিকার্ডো এভানজেলিস্তা বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী নন-ফার্ম পে-রোল তথ্য প্রকাশিত হলে ফেডের কঠোর অবস্থানের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচেও নেমে যেতে পারে।

অন্যদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৮২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৮৮ দশমিক ০১ ডলার। তবে পালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২১২ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে।

সূত্র: রয়টার্স

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category