বরিশাল কাশিপুর মুখার্জী বাড়ি পুল সংলগ্ন খান মঞ্জিল ভবনের মালিকের ভাড়ার গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেল-৩, বরিশাল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে একটি অসাধু চক্র ও কিছু ডিলার নিয়োগ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে জাল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে অবৈধ ও কমদামি সিগারেট বিক্রি ও মজুত করে আসছিল। এসব সিগারেট গোপনে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার দোকানগুলোতে বিক্রি করা হত।
অভিযানকালে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত প্রায় ৫০ কার্টুন সিগারেট জব্দ করা হয়। প্রতি কার্টুনে রয়েছে ১০ হাজার পিস সিগারেট। লাল ও লীল রঙের দুই প্রকার সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের মূল্য লেখা রয়েছে ১২০ টাকা। হিসাব করলে জব্দকৃত অবৈধ সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান ও সাজ্জাদ আলম জানান, কাস্টমস বিধি অনুযায়ী এসব পণ্য আটক দেখিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থলে আসার আগেই গোডাউনে লোকজন সরে যায়। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে, এমন তথ্য পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে আসলে ব্যবসায়ী বা স্টাফ কাউকেই পাওয়া যায়নি। এখন আইনের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর ভবন মালিক ও স্থানীয় সহ বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে সব মালামাল জব্দ করা হয়।
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও আরিফুল ভুঁইয়া বলেন, অবৈধ বিড়ি-সিগারেটের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। নকল ও কর ফাঁকির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। অভিযানের সময় বরিশাল বিমানবন্দর থানার এসআই বাসুদেব, এএসআই বাবুলসহ কনস্টেবল মিজান ও আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
খান মঞ্জিলের মালিক নূরুজ্জামান বলেন, তার ছেলে সোলায়মান চলতি বছরের জুন মাসে দুই বছরের চুক্তিতে তাদের বসতঘরের সামনে ভবনটি মাসে ৮ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছে। ভাড়াটিয়ারা পিকআপে কার্টুন ভর্তি মালামাল আনা-নেওয়া করে। এর বেশি কিছুই তিনি জানেন না।
গোডাউন ম্যানেজার কায়সার বলেন, “আমি বেতনভুক্ত কর্মচারী। কাস্টমস আর কোম্পানি ভালো বলতে পারবে সিগারেট আসল না নকল।”