মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

ইরানের-ইসরাইল যুদ্ধে জার্মান সেনাদের অংশগ্রহণ

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৯ Time View

ইরানের সঙ্গে চলা ১২ দিনের সামরিক সংঘাতের সময় ইসরাইলের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে জার্মানি। সম্প্রতি ইরানি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে ইরানের ওপর ইসরাইলের অভিযান চলাকালীন পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি ছিল অন্যতম। সেই সময় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মের্জ প্রকাশ্যে ইসরাইলের হামলাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, হামলার আগে থেকেই বিষয়টি তার জ্ঞানে ছিল।

মের্জ আরও বলেন, “ইসরাইলের জন্য ইরানের ওপর হামলা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে।”

ইসরাইলি হামলায় এক হাজারেরও বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের যুক্তি ছিল, হামলাগুলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ কার্যক্রমকে রুখতে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কখনও এমন কোনো প্রমাণ পায়নি যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তেহরান টাইমস জানিয়েছে, জার্মানির সমর্থন শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বাস্তবে বার্লিন ইসরাইলকে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সক্রিয় সহায়তা দিয়েছে, এমনকি দখলকৃত এলাকায় জার্মান সেনাদের মোতায়েন করা হয়েছিল।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা ইরানি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়েছেন, ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলি সরকারের অনুরোধে কিছু জার্মান সৈন্য তেল আবিবে অবস্থান নিয়েছিল। দুই দেশের গোপন চুক্তির মাধ্যমে জার্মান সেনারা এই অভিযান পরিচালনায় অংশ নেয়। চুক্তিটি জার্মান ও ইসরাইলি কমান্ডারদের মধ্যে গোপনে সম্পাদিত হয়, যদিও ইরানের হাতে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।

ইরানের বিরুদ্ধে জার্মানির এই সহায়তা দ্বিতীয়বারের মতো। ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের একনায়ক সাদ্দাম হোসেনকে রাসায়নিক অস্ত্র সরবরাহ করেছিল বার্লিন।

তেহরান টাইমস জানায়, যুদ্ধে নিয়োজিত জার্মান সেনারা আর্থিক পারিশ্রমিক পেয়েও যুদ্ধ শেষে দ্রুত দখলকৃত এলাকা ত্যাগ করেছে। সংঘাত তীব্র হওয়া ও ইরান থেকে সম্ভাব্য আক্রমণ বাড়লে জার্মান সৈন্যদের মধ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অনিচ্ছা দেখা দেয়।

ফাঁস হওয়া একটি ইসরাইলি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মান সেনাদের হঠাৎ প্রস্থান ইসরাইলি প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। তবে ফ্রান্সের অংশগ্রহণের কারণে ইসরাইলের পরিকল্পনা ততটা ব্যাহত হয়নি।

জার্মান সংসদ এই সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি যুদ্ধে সৈন্য পাঠাতে সরকারকে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন প্রয়োজন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই বিধান কার্যকর হয় যাতে সরকার একতরফাভাবে যুদ্ধ শুরু করতে না পারে।

তেহরান টাইমস জানায়, ইরানের হাতে এখন জার্মান সেনাদের নাম, সহযোগিতার প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

এই খবর প্রকাশের সময় ইসরাইল গুপ্তচরবৃত্তির চাপে পড়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট জানাচ্ছে, ২০২৪ সালে গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বহু ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category