মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

ভারতে ভূমিধসে পাথর চাপায় বাসের ১৮ যাত্রী নিহত

  • Update Time : বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৭ Time View

ভারতের হিমাচল প্রদেশে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। উদ্ধারকাজে তিনজনকে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিলাসপুর জেলার ঝাণ্ডুত্তা বিধানসভা এলাকার ভালুঘাট অঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি ভাল্লু সেতুর নিকটে অবস্থিত।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস হরিয়ানার রোহতক থেকে বিলাসপুরের ঘুমারিনের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রাপথে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। ঠিক সেই সময় পাহাড় থেকে বিশাল পাথর ও মাটি খসে পড়ে সরাসরি বাসটির ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই বাসটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আর চাকার নিচ থেকে ছাদ পর্যন্ত পাথরে ঢেকে যায় যানটি।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, পাহাড়ি অংশের ভারী পাথরগুলো বাসটিকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে চেপে দেয়, ফলে ভেতরে থাকা অনেক যাত্রীকে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চললেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গতি কমে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন এবং রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এসডিআরএফ) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চলছে। এখনও বাসের ভেতরে কয়েকজন আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিলাসপুরের এক পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, “পাহাড়ের বড় একটি অংশ সরাসরি বাসের ওপর ধসে পড়ে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া দেহগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা ধারণা করছি, ভেতরে থাকা যাত্রীদের জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিলাসপুর জেলায় ১২ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক পর্যায়ের। এই অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন ভ্রমণকারীদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ি রাস্তায় না চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।

দুর্ঘটনার ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কার্যক্রমে সর্বোচ্চ তৎপরতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক টুইটে শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারপ্রতি ২ লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বাসের ভেতরে থাকা বহু যাত্রী এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও এখনো সম্পূর্ণ ধ্বংসাবশেষ সরানো সম্ভব হয়নি। পাহাড়ি অঞ্চলে রাতের উদ্ধার অভিযান কঠিন হওয়ায় কাজ অব্যাহত থাকলেও গতি মন্থর।

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল নাগাদ উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি জানা যেতে পারে। তবে প্রশাসনের আশঙ্কা, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মৌলিকভাবে পুনর্লিখিত মূল খবরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু ভাষা, গঠন, এবং বর্ণনা সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে, তাই কোনোভাবেই এটি কপিরাইটের আওতায় পড়বে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category