সবশেষ আয়ারল্যান্ড সিরিজের ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, তবে কি এটাই জাতীয় দলে মাহমুদউল্লাহর ক্যারিয়ারের শেষ? বোর্ডের জবাব অবশ্য বেশ স্পষ্ট ছিল, বিশ্রামই দেয়া হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে।
আয়ারল্যান্ড সিরিজ শেষে আবারও সাংবাদিকদের প্রশ্ন উঠেছিল, মাহমুদউল্লাহর বাদ পড়াটা কি আসলেই বিশ্রাম, সাবেক ক্রিকেটার ও নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক আবারও স্পষ্ট করে জানানলেন, হ্যাঁ বিশ্রামই।
বিশ্রাম হলেও মাহমুদউল্লাহর বিশ্রাম যে কিছুটা রহস্যজনক, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। কারণ আইরিশদের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের পর এবার আয়ারল্যান্ড সফরেও দল থেকে বাদ অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
রোববার (৯ এপ্রিল) আইরিশদের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ওয়ানডে সিরিজের দল দিয়েছে বাংলাদেশ। আগের সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন ইয়াসির আলী রাব্বি।
জাতীয় দলে মাহমুদউল্লাহর সবশেষ কয়েকটা সিরিজ একেবারেই দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। স্লো ব্যাটিং এবং বাজেভাবে আউট হয়ে দলকে বিপদের মুখে ফেলে দেয়ার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন কয়েকবার। একপর্যায়ে ক্রিকেটপাড়ায় বেশ আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে দলে মাহমুদউল্লাহর অবস্থান। পক্ষে বিপক্ষে অনেক মত থাকলেও শেষমেশ আয়ারল্যান্ড সিরিজের দল থেকে জাতীয় দলের বাইরে আছেন এই ক্রিকেটার।
বারবারই বোর্ড বিষয়টিকে বিশ্রাম বলে আসলেও রহস্য থেকেই যাচ্ছে। ঘরের মাঠে আইরিশদের বিপক্ষে সিরিজে বেশ চাপমুক্ত থেকেই খেলেছে বাংলাদেশ। একে তো চেনা কন্ডিশন তার ওপর তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস, সবকিছু মিলিয়েই সিরিজে অনেকখানি এগিয়ে ছিল টাইগাররা। তাই ঘরের মাঠের এই সিরিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগটা ভালোভাবেই ছিল। মাহমুদউল্লাহকে বিশ্রাম দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেয়ার এই যুক্তিটাও তাই যুক্তিযুক্ত লাগার মতোই।
তবে আইরিশদের সঙ্গে ঘরের মাঠের সিরিজ আর অ্যাওয়ে সিরিজের প্রেক্ষাপট কিন্তু বেশ আলাদা। নিজেদের কন্ডিশনে আইরিশরা কতটা ভয়ঙ্কর, সেটা তারা গত বেশ কয়েকবছর ধরেই প্রমাণ করে আসছে। নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলও আইরিশদের সঙ্গে খাবি খেয়েছে ওই কন্ডিশনে। তাই এই সিরিজে অবশ্যই মাহমুদউল্লাহকে বসিয়ে রেখে এক্সপেরিমেন্ট করতে চাইবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে জায়গা পেয়েছিলেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ। সে সিরিজের তিন ম্যাচেই মাঠে নেমে মোটে ৭১ রান করেছিলেন তিনি। স্ট্রাইক রেটের অবস্থাও ছিল বেশ করুন, ৬৬.৭৩। মূলত এই স্ট্রাইক রেটই মাহমুদউল্লাহর দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাকে দিন দিন কমিয়ে দিচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে মাহমুদউল্লাহর স্ট্রাইকরেট বেশ কমেছে। ২০২০ সালে ওয়ানডেতে তার স্ট্রাইকরেট ছিল ৮৫.২০। এক বছরের ব্যবধানে ২০২১ সালে সেটা হয় ৮১.৫৯। ২০২২ সালে সেটা হয়ে যায় ৬৯.২৫। দিন দিন তার এই স্লো ব্যাটিং-ই মূলত দলে তার অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে দলে তার অবস্থানকে। এছাড়া তার পজিশনে অনেক তরুণ ক্রিকেটারও সুযোগ পেয়ে চমক দেখাচ্ছেন। তাই মাহমুদউল্লাহর এই বিশ্রাম কি আসলেই বিশ্রাম কিনা সেটা এখন সময়ই বলে দেবে।