ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা এবং লেবাননে নতুন করে হামলা না চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল।
শুক্রবার (৭ এপ্রিল) ইসরাইলের সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরাইলের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, এ মুহূর্তে তাদের অপারেশন শেষ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, উত্তেজনা বাড়ুক এখন কেউ চায় না।
মুখপাত্র আরও বলেন, এ মুহূর্তে অন্তত আগামী কয়েক ঘণ্টা শান্তির জবাব শান্তির মাধ্যমেই দেয়া হবে।
এদিকে ইসরাইলি সেনারা লেবাননে যে বিমান হামলা চালিয়েছে, সেগুলো একটি উন্মুক্ত স্থানে চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানরত আল জাজিরার সাংবাদিক জিনা খোদর বলেন, উন্মুক্ত স্থানে হামলা চালানোর বিষয়টি ইঙ্গিত করছে ইসরাইল এ মুহূর্তে বড় সংঘাত চায় না।
এছাড়া লেবাননও এ মুহূর্তে ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত বাড়ুক চায় না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। তিনি ইসরাইলের বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলের ভেতর থেকে আর যেন কোনো হামলা না হয়, সেটি নিশ্চিতে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে।
এর আগে, শুক্রবার ভোরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার পর লেবাননেও বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জন্য শত্রুদের চরম মূল্য দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) মধ্যরাতে লেবাননে রকেট হামলার জবাব দেয়ার ঘোষণা পরই গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার অন্তত পাঁচটি স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এগুলো হলো: উত্তর গাজার বেইত হেনোন কৃষিজমি, গাজা শহরের দক্ষিণে দুটি এলাকা, গাজা শহরের কাছে আল-জাইতুন এলাকার পূর্বদিকের কৃষিজমি ও দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বদিকের একটি এলাকা।
চলতি সপ্তাহে জেরুজালেমের আলা-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি হামলার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার বিকেলে লেবানন থেকে ইসরাইলের দিকে রকেট হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২০০৬ সালের লেবানন-ইসরাইল যুদ্ধের পর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
লেবানন থেকে রকেট হামলার জন্য গাজার শাসক দল হামাসকে দায়ী করেছে ইসরাইল। তবে হামলার পেছনে কারা ছিল, তা জানাতে অস্বীকার করেছে হামাস।