এতে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল বিশ্বের এ সমর্থন বাড়ার অন্যতম কারণ দেশটির বিরুদ্ধে পশ্চিমা অবরোধ, আর রাশিয়ার প্রতি চীনের সমর্থন।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে রাশিয়াকে একঘরে করার পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাড়ছে রাশিয়ার প্রতি সমর্থন। যুদ্ধ শুরুর পর গত এক বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জাতিসংঘে ভোটাভুটির ধরন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি, আনুষ্ঠানিক বিবৃতিসহ রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের পর্যালোচনা করে ইআইইউ। এরই ভিত্তিতে প্রণীত হয় এ গবেষণা প্রতিবেদন।
রাশিয়ার প্রতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমর্থন বাড়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে চীন। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে চীন। অর্থনৈতিকভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন দেখিয়ে আসছে।
এছাড়া যুদ্ধের এক বছরে নিরপেক্ষ দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে ৩৫টিতে উন্নীত হয়েছে। এসব দেশে বাস করে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ। তুরস্ক, কলম্বিয়া ও কাতারের মতো পশ্চিমা ঘেঁষা দেশও এখন নিরপেক্ষ বলয়ে। পশ্চিমা দুনিয়া ও রাশিয়া উভয় পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের জন্যই নিরপেক্ষ দেশের সংখ্যা বাড়ছে, যা অর্থনৈতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার শক্তিশালী অবস্থানকেই নির্দেশ করে।
সে তুলনায়, রাশিয়ার সমালোচনা করা দেশের সংখ্যা ১৩১ থেকে কমে ১২২টিতে নেমে এসেছে। এ সব দেশে বাস করে বৈশ্বিক জনসংখ্যার মাত্র ৩৬ শতাংশ। তবে এ দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর। পক্ষান্তরে অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর দেশগুলোতে বাড়ছে রাশিয়ার সমর্থন। সম্পদশালী পশ্চিমা অর্থনীতির সাথে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর ব্যবধান যে দিন দিন বাড়ছে, এ ঘটনা সে দিকটিও নির্দেশ করে।
এ ব্যাপারে ইআইইউর পর্যবেক্ষণ হলো, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণেই বিশ্বে খাদ্য সঙ্কট তৈরি হয়েছে – এমন ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে মূল্যস্ফীতিতে আক্রান্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল বিশ্বে রাশিয়ার প্রচারণা উস্কে দিচ্ছে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে নিপীড়িত দেশগুলোর জনমনে জমা অসন্তোষকেও। এসব দেশে পশ্চিমা দেশগুলোর শোষণ-নিপীড়ন চালানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।