শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
Title :
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৫ দিনের আলটিমেটাম রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্য সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের সূচিতে ১০ কর্মসূচি: মাহদী আমিন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী মক্কা হামলার অভিযোগ ঘিরে হুতিদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন সৌদি বাদশাহ জাতিসংঘের ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের তুরস্ক-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয়: তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক

উন্নয়নশীল বিশ্বে সমর্থন বাড়ছে রাশিয়ার

  • Update Time : সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৩১১ Time View

পশ্চিমা বিশ্বের প্রচারণা সত্ত্বেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাড়ছে রাশিয়ার প্রতি সমর্থন। ব্রিটিশ থিংক ট্যাংক ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গবেষণায় উঠে এসেছে তথ্যটি।

এতে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল বিশ্বের এ সমর্থন বাড়ার অন্যতম কারণ দেশটির বিরুদ্ধে পশ্চিমা অবরোধ, আর রাশিয়ার প্রতি চীনের সমর্থন।

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে রাশিয়াকে একঘরে করার পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাড়ছে রাশিয়ার প্রতি সমর্থন। যুদ্ধ শুরুর পর গত এক বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জাতিসংঘে ভোটাভুটির ধরন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি, আনুষ্ঠানিক বিবৃতিসহ রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের পর্যালোচনা করে ইআইইউ। এরই ভিত্তিতে প্রণীত হয় এ গবেষণা প্রতিবেদন।

এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে অভিযান চালানোর পরও গত এক বছরে রাশিয়ার পক্ষে সার্বিকভাবে উন্নয়নশীল বিশ্বের সমর্থন বেড়েছে। আগের বছরে সরাসরি রাশিয়াপন্থি দেশের সংখ্যা ২৯টি হলেও বর্তমানে তা ৩৫টিতে উন্নীত হয়েছে। এ ক্যাটাগরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ চীন হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা, মালি ও বুরকিনা ফাসোর মত সাবেক পশ্চিমা সমর্থক দেশও এ দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব দেশে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ রয়েছে।

রাশিয়ার প্রতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমর্থন বাড়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে চীন। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে চীন। অর্থনৈতিকভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন দেখিয়ে আসছে।
এছাড়া যুদ্ধের এক বছরে নিরপেক্ষ দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে ৩৫টিতে উন্নীত হয়েছে। এসব দেশে বাস করে বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ। তুরস্ক, কলম্বিয়া ও কাতারের মতো পশ্চিমা ঘেঁষা দেশও এখন নিরপেক্ষ বলয়ে। পশ্চিমা দুনিয়া ও রাশিয়া উভয় পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের জন্যই নিরপেক্ষ দেশের সংখ্যা বাড়ছে, যা অর্থনৈতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার শক্তিশালী অবস্থানকেই নির্দেশ করে।

সে তুলনায়, রাশিয়ার সমালোচনা করা দেশের সংখ্যা ১৩১ থেকে কমে ১২২টিতে নেমে এসেছে। এ সব দেশে বাস করে বৈশ্বিক জনসংখ্যার মাত্র ৩৬ শতাংশ। তবে এ দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর। পক্ষান্তরে অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর দেশগুলোতে বাড়ছে রাশিয়ার সমর্থন। সম্পদশালী পশ্চিমা অর্থনীতির সাথে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর ব্যবধান যে দিন দিন বাড়ছে, এ ঘটনা সে দিকটিও নির্দেশ করে।
এ ব্যাপারে ইআইইউর পর্যবেক্ষণ হলো, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণেই বিশ্বে খাদ্য সঙ্কট তৈরি হয়েছে – এমন ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে মূল্যস্ফীতিতে আক্রান্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল বিশ্বে রাশিয়ার প্রচারণা উস্কে দিচ্ছে সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে নিপীড়িত দেশগুলোর জনমনে জমা অসন্তোষকেও। এসব দেশে পশ্চিমা দেশগুলোর শোষণ-নিপীড়ন চালানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category