পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুনানির সময় ইমরান খানের আইনজীবীরা জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রাখার অনুরোধ করেছিলেন। কারণ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানান তারা। তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। ইমরান খানের জীবনের ওপর হুমকি থাকা সত্ত্বেও তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রত্যাহার করেছে আদালত।
যে মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে সেটা মূলত ইমরান খানের একটি বক্তব্য সম্পর্কিত। গত বছর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় শাহবাজ গিল নামে তার এক রাজনৈতিক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তার জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানায় আদালত।
এরপর ইসলামাবাদের ফাতিমা জিন্নাহ পার্কে এক সমাবেশে ইমরান খান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেবা চৌধুরী ও পুলিশের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ‘দেখা নেয়ার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
সম্প্রতি তোষাখানা মামলার শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় সাবেক ইমরান খানের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানা নিয়ে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে পিটিআই সমর্থকদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তানের রাজনীতির মাঠ। চরম নাটকীয়তার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল করেন আদালত।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর গত বছরের এপ্রিলে জাতীয় পরিষদে বিরোধীদের আনা অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর গত এক বছরে ইমরানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দেয়া হয়েছে।
তবে ইমরান খানকে নিয়ে উল্টো বেকায়দায় আছে পাকিস্তানের বর্তমান সরকার। ফলে পিটিআই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পার্লামেন্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) তিনি বলেন, ‘আইনকে নিজ গতিতে চলতে দিতে হবে।’
পাকিস্তানকে রক্ষা করতে চাইলে এখনই পার্লামেন্ট থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ইমরানের বিরুদ্ধে কী ধরণের ব্যবস্থা চাইছেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি শাহবাজ শরিফ। এদিন পার্লামেন্টে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ -কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার আহ্বান জানান।