বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
Title :

হুথিবিরোধী অভিযানে ইসরাইলকে যুক্ত হতে দেননি সৌদি যুবরাজ

  • Update Time : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ Time View

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ইসরাইলের অংশ নেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন সৌদি আরবের কার্যত শাসক ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশঙ্কায় তিনি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে বোমাবর্ষণ কমে আসার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র খুঁজছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নেতানিয়াহু। ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে রিয়াদের সামরিক অভিযানে ইসরাইলকে যুক্ত করার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির পথ সুগম করাই ছিল ইসরাইলের মূল উদ্দেশ্য।

ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবকে তথাকথিত আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। রিয়াদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যেকোনো সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রচারণায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন।

ইসরাইলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। এমন সময়ে এই তথ্য সামনে এসেছে, যখন হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের বিমান চলাচল খাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ শনিবার পর্যন্ত রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তার অনুমোদন ছাড়া সৌদি জোটে নেতানিয়াহু সরকারের অংশগ্রহণ কার্যত অসম্ভব।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যের কথা বলে আসছেন। হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষ দিকে দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। এ কারণে ওই বছরের ৭ অক্টোবরের হামলার আগের সপ্তাহগুলোতে হামাসের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে চাননি নেতানিয়াহু।

তবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি যুবরাজই প্রথম নেতানিয়াহুকে হামাসের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগাম সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী সেই সতর্কবার্তা অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category