গ্যাস সংযোগ পাওয়ার ১৫ দিন পর পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছে বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল)। সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন এবং অ্যামোনিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন। উৎপাদিত ইউরিয়া জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১ জেলায় সার সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জেএফসিএল সূত্র জানায়, গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২২ মাস পর ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেয়। এরপর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রক্রিয়া (স্টার্টআপ) পুনরায় শুরু হয়। তবে গ্যাসের চাপ ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার ১৫ দিন পর সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানাটি ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরে আসে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে আরও জানা গেছে, ইউরিয়া সার স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যমুনা সার কারখানায় প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে গ্যাসের চাপ ৪৬ এমএমসিএফ নিশ্চিত রাখা প্রয়োজন। বর্তমানে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকলে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় ইউরিয়া সার সরবরাহের পাশাপাশি কারখানাকেন্দ্রিক পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শ্রমজীবী মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় সার সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতেও কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সার কারখানার উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত শ্রমিক ও কারখানানির্ভর পরিবহনসহ অন্যান্য খাতের শ্রমজীবীরা উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। উৎপাদনে ফেরায় জেএফসিএলের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, সার ডিলার, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে উৎফুল্লতা ফিরে এসেছে।