রাজধানীর পল্লবীতে বিদেশি পিস্তল, গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ কিশোর গ্যাংয়ের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৪ (এসআরবি-৪)। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে পল্লবী থানার সিরামিক ও ১২ নম্বর ঝিলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. জুয়েল রানা (২৬), মো. সায়মন (২০), মো. রমজান (২২), মো. বিজয় (২৩), মো. ফজলে রাব্বি চিকু (২৩), মো. আফসার হোসেন জিম (১৯), মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. মিশন ইসলাম ওরফে মিনহাজুল ইসলাম।
এসআরবি-৪-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আফসার হোসেন জিম ও সায়মনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পল্লবী থানার ১৭/এ নম্বর বাড়ি ও ২৯ নম্বর সড়ক এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে ২৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এসআরবি-৪-এর দাবি, আফসার হোসেন জিম ‘ফোর স্টার’ মশিউর–মামুন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তিনি বিভিন্ন জায়গা দখল, হোটেলকক্ষে আটকে ব্ল্যাকমেইল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তাঁর সহযোগী সায়মন ওই গ্রুপের হয়ে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া এবং গুলির ঘটনায় সামনের সারিতে থাকতেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে দাদা জাহাঙ্গীর ওই এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে এসআরবি জানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ
এসআরবি-৪-এর ভাষ্য অনুযায়ী, মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
সংস্থাটির দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের মশিউর–মামুন ও মোক্তার গ্রুপের হয়ে পল্লবী এলাকায় জায়গা দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. বিজয় গ্রুপটির সক্রিয় অস্ত্রধারী সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। মো. রমজানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। ফজলে রাব্বি চিকুর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একটি মামলা রয়েছে। মিশন ইসলাম ওরফে চোর মিশনের বিরুদ্ধে দুটি দস্যুতার মামলা রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া জুয়েল রানা ওরফে কাল্লু জুয়েল ‘ফোর স্টার’ মোক্তার গ্রুপের অস্ত্রধারী সদস্য বলে দাবি করেছে এসআরবি-৪।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪।