আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় কোরবানির পশুর হাট কেবল নির্ধারিত ৫ দিনের জন্যই বসবে। এর আগে যেকোনো ধরনের পশু বেচাকেনা বা হাটের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
বুধবার দুপুরে ডিএনসিসি অডিটরিয়ামে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, হাটগুলোতে শৃঙ্খলারক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে প্রায় ১০০ জন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো হচ্ছে। তারা সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে হাটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
এবার হাটের হাসিল আদায়ের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক কমা ব্যবহার করে বলেন, পশু বিক্রির মোট অর্থ থেকে ইজারাদারেরা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ হাসিল কেটে রাখতে পারবেন। তবে এটি কেবল ক্রেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, পশুর মূল মালিক বা বিক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অনুমোদিত ও বৈধভাবে ইজারা দেওয়া নির্ধারিত জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও পশুর হাট বসানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাড়তি সুবিধার আশায় কেউ যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে পশু কেনাবেচা করেন, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারী বৃষ্টির কারণে হাটে যেন জলজট বা কাদা না জমে, ইজারাদারদের সেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসক। পাশাপাশি হাটের পরিবেশ সুরক্ষায় প্রতিদিনের বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্ধারিত স্থানে অপসারণ করার তাগিদ দেন, যেন কোনো ধরনের দুর্গন্ধ বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয়।
সবশেষে হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে পরিবারসহ নারী ও শিশুরা হাটে আসেন। তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারী ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত ‘পিংক টয়লেট’ স্থাপনের জন্য ইজারাদারদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।