মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ন

হামবুর্গে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলা বইমেলা ও বাংলা কার্নিভাল

  • Update Time : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ৪৫ Time View

প্রবাসের মাটিতে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির আবহ ছড়িয়ে দিতে জার্মানির হামবুর্গে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বাংলা বইমেলা ও বাংলা কার্নিভাল। বাঙালির ঐতিহ্য, আবেগ ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন।

প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় সাংস্কৃতিক সংগঠন “বাংলার পার্বণ”-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে হামবুর্গের প্রাণকেন্দ্র হর্নার ফ্রাইহাইটে অনুষ্ঠিত হয় এবারের তৃতীয় আসর। প্রবাসী বাঙালিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন “বাংলার পার্বণ”-এর অন্যতম সংগঠক মৃদুল রায়। তিনি বলেন, “বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে বাংলা বইমেলা ও সাংস্কৃতিক কার্নিভালের মতো আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসী সাংবাদিক শ্রাবণ রহমান বলেন, প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির চর্চা আত্মপরিচয়কে সমৃদ্ধ করে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার সৌন্দর্য পৌঁছে দিতে নিয়মিত বাংলা বই পড়া ও দেশীয় সংগীতচর্চার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন হামবুর্গ পার্লামেন্টের সদস্য ও আইনজীবী মেহরিয়া আশুফতাহ। অভিবাসী ও শরণার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ২০২৩ সালে “প্রবাসী ভারতীয় সম্মান” পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা ড. অমল মুখোপাধ্যায়।তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

এবারের কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান, ব্যান্ড সংগীত ও কবিতা আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। প্রবাসের আকাশে যেন এক টুকরো বাংলার আবহ ছড়িয়ে পড়ে শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায়। দর্শকদের করতালি আর উচ্ছ্বাসে উৎসবটি পায় ভিন্নমাত্রা।

হামবুর্গে বসবাসরত শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণসহ সব বয়সী বাঙালিদের জন্য দিনটি ছিল এক আনন্দঘন মিলনমেলা। বই, সংস্কৃতি আর বাঙালিয়ানার আবেগে সাজানো এই আয়োজন প্রবাসে বসেও যেন ছুঁয়ে যায় বাংলার মাটির ঘ্রাণ।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে “বাংলার পার্বণ”-এর স্থায়ী সদস্য ও খাদ্য-পুষ্টি বিজ্ঞানী ড. কামাল হোসেন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাংলা বইমেলা ও কার্নিভাল আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এ আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

শ্রাবণ রহমান,
হামবুর্গ , জার্মানি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category