যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার শতবর্ষ পূরণ করেছেন। শনিবার (২৭ মে) তার ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
জন্মদিন উপলক্ষে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হেনরি কিসিঞ্জার বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মারাত্মক ভুল ছিল ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করা। তার মতে, এই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, হেনরি কিসিঞ্জারের আমলেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবং স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে কিসিঞ্জারের নেতৃত্বেই ধীরে ধীরে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিল মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি। মূলত ওই সময়ই দুই অক্ষে ভাগ হয়ে গিয়েছিল বিশ্ব। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিল কিসিঞ্জারের আমেরিকা, আর অন্য পক্ষে ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন।
কিসিঞ্জার ১৯২৩ সালের ২৭ মে জার্মানির একটি ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার নাৎসি শাসন আমলে জার্মানি থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যায়। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা।
অনেকেই মনে করেন ‘যুদ্ধবাজ’ হিসেবে পরিচিত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কখনও সেভাবে বিচারের মুখোমুখি হননি। এ নিয়ে বহু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
কমিউনিস্ট চীন থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষপর্যন্ত সোভিয়েতবিরোধী স্বৈরশাসকদের অবৈধভাবে সমর্থন দিয়ে গেছেন তিনি। কিসিঞ্জার ক্ষমতায় থাকার সময় বা পরে প্রভাব বিস্তার করে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও জেরাল্ড ফোর্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কিসিঞ্জার।