আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। চলচ্চিত্রাঙ্গনের মিয়া ভাই। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে দুই বছর চিকিৎসাধীন থেকে হার মেনেছেন নিয়তির কাছে। নায়ক ফারুকের মৃত্যুখবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ১৫ মে। এরপর সক্রিয় হয় একটি মহল। সামনে আনা হয় নায়কের ব্যাংক ঋণের বিষয়টি। বলা হয়, পাঁচ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ আছে এ অভিনেতার!
সদ্য প্রয়াত নায়ক ফারুকের মরদেহ দেশে আনা হয় ১৬ মে। তার ঠিক এক দিন পরই (১৭ মে) ‘চিত্রনায়ক ফারুকের ব্যাংক ঋণ ৫ হাজার কোটি টাকা নয়, আসলে কত?’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ‘প্রয়াত এ অভিনেতার নামে সুদসহ প্রায় ১০১ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে।’
তবে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ফ্ল্যাট বিক্রি করতে হয়েছিল নায়ক ফারুককে। এমন তথ্যই জানিয়েছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। সময় সংবাদকে রিয়াজ বলেন, পাঁচ হাজার কোটি টাকা অনেক। আমি জানি, সিঙ্গাপুরে যখন ফারুক ভাইয়ের চিকিৎসা হচ্ছিল তখন ভাবিকে খুবই অল্প টাকায় ফ্ল্যাট বিক্রি করতে হয়েছিল। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি অনেক কিছু বিক্রি করে দিয়ে ফারুক ভাইয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়েছিল।’
প্রয়াত নায়ক ফারুকের ব্যাংক ঋণের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে। তিনি বলেন, ‘শুধু ফারুক সাহেবই ঋণ নিয়েছেন তা না, উনি নির্বাচনের সময় ঋণখেলাপি ছিলেন, তখন এটা রি-শিডিউল করে বৈধতার ব্যবস্থা করে সরকার। তখন কিন্তু এটি নিয়ে এত নাড়াচাড়া হয়নি।’
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘একটা মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে; ঠিক আছে, পাঁচ দিন পরেও তো নিউজটা করা যেত। চলচ্চিত্রের এমনিতেই যে অবস্থা, তার মধ্যে এ রকম একটি বিশাল নিউজ করে দেয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ার লোকজন সুযোগ পেয়েছে। তারা ভেবেছে, প্রথম আলো যদি এ রকম করতে পারে, আমাদের তো করতে অসুবিধা নাই। এতে একজন মৃত মানুষের প্রতি অশ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।’
চলচ্চিত্রে এ অভিনেতার অবদান মনে না রেখে কেন তার ঋণের পেছনে লাগা হয়েছে? প্রশ্ন নিপুণের। তার ভাষায়: ‘ব্যবসা করলে ঋণ থাকবেই। আমার নিজেরও ঋণ আছে। এ জন্য আমি কি করে গেছি সেগুলো ভুলে যাবেন? পরিবারটার কথা চিন্তা করেন, ওনারা কেমন আছেন সেটা ভাবেন, ওনাদের শোক সইবার শক্তিটা দেন।’
আকবর হোসেন পাঠান ফারুক শুধু নায়কই ছিলেন না, ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে ছয় দফা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ–সবকিছুতেই সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে।
চলচ্চিত্রাঙ্গনে ফারুকের আগমন দেশ স্বাধীনের পর। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন এ অভিনেতা। তারও আগে ‘সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান চিত্রনায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক। ৭৪ বছর বয়সে থেমে যায় তার জীবন-চাকা। তার মৃত্যুতে একপ্রকার অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে চলচ্চিত্রাঙ্গন।