তুরস্কের নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দলীয় নেতা কামাল কিলিচদারোগলু। তবে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। খবর বিবিসির।
শুক্রবার (১২ মে) বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিধান করে বিপুল জনসমাবেশে যোগ দেন কামাল। রোববার (১৪ মে) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তার ওপর হামলা চালানো হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এমন খবর জানায় তার দল। এরই জেরে নিরাপত্তার খাতিরে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে সমাবেশে আসেন বিরোধী দলীয় এই নেতা। এতে যোগ দেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।
এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচন প্রস্তুতি। ৭৩টি দেশ থেকে ব্যালট এসে পৌঁছেছে আঙ্কারায়। ঠিক এমন সময় দেশটির নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন রিপাবলিকান পিপলস পার্টি-সিএইচপির নেতা কামাল কিরিচদারোগলু।
রোববারের নির্বাচনকে সামনে রেখে মস্কোর বিরুদ্ধে অনলাইনে মিথ্যা কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগ করেন তিনি। এর যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে বলে জানান কামাল। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করেন কিরিচদারোগলু। তবে, ক্ষমতায় এলে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায়িক, অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্পর্ক আরও জোরদারের কথাও বলেন তিনি।
কামাল কিরিচদারোগলু বলেন, বিদেশি একটি দেশ নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের জন্য আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে। আমি চাই, বিষয়টি গোটা বিশ্ব জানুক। এ জন্যই আমি সবার জন্য উন্মুক্ত টুইটারে বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমরা আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করব না। তবে, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। প্রেসিডেন্ট হলে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে কামালের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন। অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যারা কিরিচদারোগলুর কাছে এসব অভিযোগ দিয়েছে তারা মিথ্যাবাদী। আঙ্কারার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে রাশিয়া।
রোববারের ভোটাভুটিকে তুরস্কের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা তুরস্কের ভবিষ্যৎ কী হবে, আন্তর্জাতিক জোটে তাদের অবস্থান ও আঙ্কারার পথ কোনো দিকে যাবে তা নির্ধারিত হবে।