এর আগে বেশ কয়েক দফায় বিতর্কিত জমি ফেরানোর নোটিশ দেওয়া হলেও এটা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় যখন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমর্ত্য সেনের বাড়ি গিয়ে নিজের হাতে রাজ্য সরকারের ভূমি ও রাজস্ব দফতর থেকে অমর্ত্য সেনের নামে ১.৩৮ একর জমির খতিয়ান তুলে দেন।
বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান। শান্তিনিকেতনের জমিও তাদেরই। ফলে এটা নিয়ে বাঁধে তীব্র বিরোধ। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বভারতী এবং অমর্ত্য সেনের মধ্যে তিন দফায় সালিশি বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সেখানেও কোনো ধরণের সমাধান মেলেনি। কারণ, দুপক্ষই নিজেদের জমির দাবিতে অনড়। কেউ কাউকে জমি না ছাড়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে।
এবার বুধবার (১৯ এপ্রিল) গভীর রাতে শান্তিনিকেতনের অমর্ত্য সেনের বাড়ি ‘প্রতীচী’র দেয়ালে নোটিশ টাঙায় বিশ্বভারতী। নোটিশে বলা হয়, আগামী ৬ মে পর্যন্ত চূড়ান্ত সময় দেওয়া হলো। এর মাঝে বিতর্কিত ১৩ শতাংশ জমি ছাড়তে হবে। অন্যথায় বল প্রয়োগ করে বিশ্বভারতী তাদের জমি বুঝে নেবে।
যদি সত্যি অমর্ত্য সেন জমি ফেরত না দেন তবে বুলডোজার দিয়ে কথিত দখল করা জমি ফেরত নিতে পারে অনড় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। যদিও ওই বাড়ির সামনে রাজ্য প্রশাসন ১৪৫ ধারা জারি করে রেখেছে যাতে সেখানে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের যোগ্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ হতে পারেন’- মাস দুয়েক আগে অমর্ত্য সেনের এ মন্তব্য নিয়ে রীতিমত তোলপাড় পড়ে যায়। মমতার দল তৃণমূল এ মন্তব্যে খুশি হলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ কারণেই বেজায় চটে যায় বিজেপি শিবির। ফলে বিষয়টি এখন ব্যক্তি অমর্ত্য সেন বনাম বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ নয় বরং বিষয়টি এখন কার্যত পশ্চিমবঙ্গে শাসকবিরোধী লড়াইয়ের মাত্রা পেয়েছে।
উল্লেখ্য, নোবেলজয়ী বর্তমানে শান্তিনিকেতনে নিজের বাড়ি প্রতীচীতে নেই। তিনি রয়েছেন তার ইউরোপের কর্মস্থলে।