স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তর পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে গড় তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রির ঘরে ওঠানামা করছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অনাবৃষ্টি। ফলে তীব্র খরায় আম বাগানগুলোতে দেখা দিয়েছে পানিশূন্যতা। এরইমধ্যে বিভিন্ন বাগানে ঝরে পড়ছে আম। তবে টানা এ তাপদাহ কী পরিমাণ আমের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটি এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি কৃষি বিভাগ।
সদরের বারোঘরিয়া এলাকার আমবাগানি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে। গরমের কারণে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। আমগাছে সেচ দেয়া হচ্ছে, তারপরও গুটি টিকানো যাচ্ছে না।’
শিবগঞ্জ রানীহাটি এলাকার আম বাগানি আশরাফুল ইসলাম বলেন, তাপমাত্রা বাড়ছে। খরায় আমের গুটি শুকিয়ে হলুদ ও ফ্যাকাসে রং ধারণ করছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টির দেখা মিলছে না। ফলে আমের বোঁটা শুষ্ক হয়ে গুটি ঝরে পড়ছে। একটু বৃষ্টি হলেই আমের গুটিগুলো টিকে যাবে। আমের ভাল ফলন হবে।’
এদিকে, টানা দাতা তাপপ্রবাহের কারণে হোপার পোকার আক্রমণ বেড়েছে বাগানগুলোতে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যান তত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. কামরুল ইসলাম জানান, বাগান মালিকদের উদ্বিগ্ন না হয়ে গাছের গোড়ায় সেচ নিশ্চিতসহ হোপার পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কীটনাশক ব্যবহার করলে ফলনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।
আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, টানা তীব্র গরমের ফলে এবার কালবৈশাখীর কবলে পড়তে পারে আমবাগান। তারপরও আম টিকিয়ে রাখতে বাগান মালিকদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৩৭ হাজার ৫৮৮ হেক্টর বাগানে আম উৎপাদন হতে পারে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন।