মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একাধিক দেশের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সিএনএনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হয়। এসব হামলায় রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো ও উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইট চিত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মূলত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর স্থাপনাগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে অনেক ঘাঁটির কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে একটি সরকারি সংস্থা কম ব্যয়ের কথা বললেও অনুসন্ধানী বিশ্লেষণে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান ও আঞ্চলিক মিত্রদের আস্থার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের হামলা দীর্ঘমেয়াদে শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে অতীতের সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতাও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কয়েক দফা সংঘর্ষের পর অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো সমঝোতা ছাড়াই পারমাণবিক সংলাপ শেষ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে৷ এই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন এবং দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়৷ এর জবাবে ইরান ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়৷
টানা ৩৮ দিন হামলা-পাল্টা হামলার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৭ এপ্রিল ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুইপক্ষ৷ গত ২৩ এপ্রিল সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত দুই পক্ষ থেকেই নতুন করে কোনো হামলা হয়নি, তবে কোনো স্থায়ী সমঝোতাতেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি৷