বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
Title :
১৬ ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালে তারেক রহমানের জনসভা, নেতাকর্মীদের ঢল সন্তান গর্ভে আসার দুই থেকে আড়াই বছর মায়েদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টা করা হবে: জামায়াত আমির ২০২৬ সালের বিশ্বসেরা মন্ত্রীর পুরস্কার পেলেন গাম্বিয়ার আবদোলি জোবে এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক, ন্যায়বিচার প্রত্যাশা জামায়াত আমিরের জামায়াতের প্রার্থী বাদলের মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত: ইসি সচিব চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিভ্রান্তি নিরসনে জামায়াত ও এনসিপির যৌথ সংবাদ সম্মেলন বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনে লড়তে বাধা নেই: চট্টগ্রাম-২ আসন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশে ‘হেলথ সিটি’ ও টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা: ড. ইউনূসের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদের মেগা বৈঠক

  • Update Time : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ Time View

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি হাবে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার যমুনায় চীন বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ফোরামের শিল্পনেতা, বিনিয়োগকারী ও বিজ্ঞানীদের সাথে আলাপকালে তিনি তার এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে চীনা প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের তরুণদের মেধার প্রশংসা করার পাশাপাশি এখানে জীবনরক্ষাকারী টিকা উৎপাদন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করার প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছেন।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল চীনা প্রতিষ্ঠান ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজির প্রস্তাব। অন্তত ২২টি দেশে সফলভাবে টিকা রপ্তানি করা এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি বা নিউমোনিয়া ও এইচপিভি বা জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ড. ইউনূস এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও টিকা মানুষের নাগালে থাকা উচিত, একে কেবল ব্যবসার হাতিয়ার করা ঠিক নয়।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অধ্যাপক ইউনূস এক উচ্চাভিলাষী হেলথ সিটি গড়ার ধারণা চীনা প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। দেশের উত্তরাঞ্চলে এ সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে একই ছাতার নিচে থাকবে ১০০০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র এবং ওষুধ ও টিকা উৎপাদন কারখানা।

ড. ইউনূস বলেন, এ হেলথ সিটি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষেরও চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন, রোগীদের চিকিৎসার ইতিহাস বা মেডিকেল রেকর্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান।

ওষুধ শিল্পের অসাধু মুনাফাখোরদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অল্প খরচে তৈরি ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রি করা লজ্জাজনক। আমরা এমন এক সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবস্থা গড়তে চাই, যেখানে মুনাফার চেয়ে মানুষের কল্যাণই হবে শেষ কথা।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অধ্যাপক ইউনূস চীনের গ্রামীণ জনপদে তার মাইক্রোক্রেডিট বা ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের প্রসারের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি গত বছরের মার্চে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সাথে তার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট আমাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি আমার বই পড়েছেন এবং আমার অর্থনৈতিক নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন, যা ছিল আমার জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত।

চীনা প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রখ্যাত বায়োমেডিক্যাল বিজ্ঞানী সিন ইউয়ান ফু, সিঙ্গাপুর রোবোটিকস সোসাইটির সহসভাপতি জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল ফার্মের চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং এবং বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের লি রান।

এ ছাড়া চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন, পাওয়ার চায়না এবং ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তাদের আগ্রহ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকের শেষে ড. ইউনূস জানান যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এ উন্নয়নমূলক কাজগুলো যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়। তিনি চীন সরকারের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অংশীদারত্ব ফোরামকে বাংলাদেশে কাজ চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেন।

চীনা বিনিয়োগকারী ও বিজ্ঞানীদের এ সফর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন এবং হেলথ সিটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category