বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সালথা উপজেলার প্রত্যেকটি মানুষ ঋণী।
মঙ্গলবার রাত ৮টায় সালথা উপজেলার চান্দাখোলা গ্রামে বিএনপি নেতা মরহুম বদিউজ্জামান মোল্যার বাড়িতে সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমার বাবা ২০০১ সালে জেল খেটে বের হয়ে এমপি হওয়ার সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখন তিনি সালথা উপজেলায় সফরে এসেছিলেন। সেই সময় এখানে একটি বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই জনসভাতেই তিনি সালথাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা দেন। সেই কারণেই সালথা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়ন আমরা দেখতে পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আপনারা সবাই দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক হয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট নিশ্চিত করবেন। এখন আর দলমত দেখার সময় নেই। কে কোন দল করে বা কোন মতের তা বড় কথা নয়। আমার বাবা সবাইকে এক চোখে দেখতেন। অন্য দলের লোক এলেও আগে তার কাজ করে দিতেন, আগে উপকার করতেন। তার মন ছিল সমুদ্রের মতো বিশাল, তার হৃদয় ছিল অনেক বড়। সেই বড় হৃদয়ের মানুষের কর্মী আপনারা সবাই ওবায়েদ সৈনিক। আপনাদেরও মন ও হৃদয় বড় করতে হবে। ছোট মন ও ছোট হৃদয় নিয়ে সালথা-নগরকান্দায় রাজনীতি করা যায় না।
তিনি বলেন, আপনারা যদি সোনাপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন চান, সালথা উপজেলার উন্নয়ন চান, আমার বাবা সে উন্নয়ন করে গেছেন। কিন্তু গত ১৭ বছরে যে রাস্তাগুলো ছিল, আজও সেই রাস্তাগুলো দিয়েই মানুষ চলাচল করছে। নতুন কোনো রাস্তা হয়েছে বলে আমি দেখি না। সালথা উপজেলা অনেক পিছিয়ে আছে। এখানে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দরকার। এসব কাজ আমি করতে চাই। তবে একা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য আপনাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র সমাজ, যুব সমাজ, নারী সমাজ ও মুরুব্বিদের জন্য কিছু করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি যদি সংসদে যেতে পারি, তাহলে অবশ্যই সালথা উপজেলার উন্নয়ন করবো, ইনশাআল্লাহ।
সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হবির সভাপতিত্বে এবং সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মনির মোল্যার সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সহ-সভাপতি শাহিন মাতুব্বর, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান মোল্যা, ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর, মাঝারদিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদুজ্জামান, গট্টি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ইনামুল হোসেন তারা মিয়া, খন্দকার রেজাউর রহমান চয়ন, হাবিবুর রহমান লাভলু, বিএনপি নেতা মুরাদ মাতুব্বর, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ আর লিটন, যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন, শাফিকুল ইসলাম, মিরান হুসাইন, মাহফুজ খান, জসিম মোল্যা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাফিল মাতুব্বর, ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ।