যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের নানা নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও অত্যাধুনিক সব অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানায়, শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট দাবি করেছেন, নিজের তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির চেষ্টা করছে তেহরান। রাশিয়ার পাশাপাশি অন্তত ৫০টি দেশের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনাও এগিয়েছে বলে দাবি তার। যদিও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি ইরান।
পশ্চিমাদের কাছে কুখ্যাতির পাশাপাশি বিশ্বের অস্ত্রের বাজারে খ্যাতি, দুইই অর্জন করেছে ইরানের তৈরি ড্রোন। প্রযুক্তির দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং চীনের তৈরি ড্রোনের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে ইরানি ড্রোন। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধেও ইরানের ড্রোনের সাহায্যে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া এবং রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর নানা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরান নিয়ে এবার অবাক করা তথ্য দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট। গ্যালান্টের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন ও পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ড্রোন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। একইসঙ্গে তৈরি করছে অত্যাধুনিক সব ক্ষেপণাস্ত্র।
তিনি বলেন, ‘ইরান আকাশ এবং সমুদ্র সব দিক দিয়ে নিরলসভাবে ইসরাইল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার জন্য কাজ করছে। তারা সরাসরি এবং কাউকে ব্যবহার করে ইসরাইলের সীমান্তের কাছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ইরান শুধুমাত্র ইসরাইল নয়, ইউরোপের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের নেতিবাচক প্রভাবগুলো ক্রমান্বয়ে ব্যাপক হয়ে উঠছে। তারা দেশ এবং মহাদেশ অতিক্রম করে গত বছরে, মারাত্মক অস্ত্রের বিশ্বব্যাপী রপ্তানিকারক হয়ে উঠেছে । সেই সঙ্গে বিশ্বের ৫০ টিরও বেশি দেশে সেগুলো বিক্রি করার জন্য আলোচনা করছে। ইরান পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে, যেমন বেলারুশ, এবং অতীতে দক্ষিণ আমেরিকায় ভেনিজুয়েলায় তা করেছে।’
তবে গ্যালান্টের এমন মন্তব্যের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি ইরান। তেহরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে অস্ত্র সরবরাহ এবং সম্প্রতি দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দমন-পীড়নের অভিযোগে ইরান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই ড্রোন শিল্পে ইরানের এগিয়ে যাওয়া পশ্চিমাদের দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।