জাতীয় দলের গোলরক্ষক কোচের চাকরি ছেড়ে গত মৌসুমে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। জাতীয় দলেও ফেরা হয়নি বিপ্লব ভট্টাচার্য্যের, ক্লাব থেকেও তাকে রাখার নেই কোনো প্রস্তাব। এমনকি প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ পর্যায়ের অন্য কোনো ক্লাবও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না জাতীয় দলে ১৬ বছর খেলা বিপ্লবের প্রতি।
বিপ্লব মনে করেন, একটি গোষ্ঠি তাকে কোথাও কাজ করতে দিতে চায় না। সবকিছু মিলিয়ে হতাশ রেকর্ড ৮টি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা এই গোলরক্ষক। ক্ষোভে, দুঃখে আর হতাশায় দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন ২০১৩ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া এই তারকা গোলরক্ষক।
বৃহস্পতিবার নিজের হতাশা প্রকাশ করে বিপ্লব ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ‘আমি কোথাও কাজ করি তা চায় না কিছু মানুষ। ওই চক্রের কাছে আমি ফুটবল ক্যারিয়ারেও জিম্মি ছিলাম। এখন বড় স্বপ্ন নিয়ে কোচিং পেশা শুরু করলেও ওই একই চক্রের কারণে সেই স্বপ্ন মনে হয় শেষ হয়ে যাবে। আমি যদি কোথাও কাজ করার সুযোগ না পাই তাহলে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আমার কোনো উপায় থাকবে না।’
আপনিতো জাতীয় দলেও অনেকদিন কাজ করেছেন। কাজ করেছেন বাফুফের বিভিন্ন কর্মসূচিতে। সেখানে ফিরে যাওয়ার কোনো চেষ্টা করেননি? ‘আমি জাতীয় দলের গোলরক্ষক কোচ ছিলাম। সেখান থেকে পদত্যাগ করে ক্লাব কোচিং শুরু করি। এখন বাফুফেতে আবার চাকরি নিতে চাইলেও আমাকে কেউ কেউ সুযোগ দেবে না। অনেকেই চান না আমি বাফুফেতে কাজ করি। আমি অনেককে মেসেজ দিয়েছি। অনেককে বলেছি। কোনো কাজ হয়নি। এখন বাধ্য হয়েই আমি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছি। কারণ, আমার তো সংসার আছে। আমার ছেলে-মেয়ে আছে। পেশায় কাজ করতে না পারলে তো আমাকে রিক্সা চালাতে হবে- বলেছেন গোলরক্ষক কোচিংয়ে লেভেল-২ সম্পন্ন করা বিপ্লব।
নিজের এই হতাশার কথা বিপ্লব তার ফেসবুক ওয়ালেও লিখেছেন। সেখানে বিপ্লব লিখেছেন, ‘দীর্ঘ চব্বিশ বছর বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ও প্রফেশনাল ক্লাব ফুটবল সুনামের সাথে খেলে কোচিং পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। কারণ ফুটবল আমাকে নাম যশ ও বাংলাদেশের মানুষের অফুরন্ত ভালবাসা দিয়েছে। অনেক আশা করে নিজেকে গোলকিপার কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের গোলকিপার কোচ হিসেবে সুনামের সঙ্গে দুই বছর কাজ করেছি। এ দুই বছরে ছেলেদের একাডেমিতে আসিফ, সোহান, মাহিন ও ইমনদের নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত গোলকিপার হওয়ার মতো করে তৈরি করেছি।’
যে স্বপ্ন নিয়ে গোলকিপার কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। ঠিক সে সময় কিছু সিন্ডিকেটের মানুষের জন্য কোথাও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি না। হয়তো এদের জন্যই যে স্বপ্ন নিয়ে গোলকিপার কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলাম সেই স্বপ্ন পূরণ আর সম্ভব হবে না। হয়তো একটা অন্য কোন পেশা নিয়ে নিজের মাতৃভূমি ছাড়তে হবে।
পরিবাররের জন্য হলেও এই কঠিন সত্যিটাকে মেনে নিয়ে নিজের মাতৃভূমি ছাড়া আর কোন পথ সামনে দেখছি না। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রিয় সকল মানুষের কাছে আমি ঋণী। আপনাদের ভালোবাসায় বিপ্লব তৈরি হয়েছিলাম। আমি সারাজীবন আপনাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকবো। এতো ভালবাসা দিয়েছেন আমাকে, যা কোনো কিছু দিয়ে শেষ করা যাবে না।হয়তো আমার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো! বাংলাদেশ ফুটবল এগিয়ে যাক। উদিত হউক বাংলাদেশের ফুটবল। এগিয়ে নেওয়ার মতো সুন্দর মনের মানুষ, যারা আমাদের মতো মানুষের স্বপ্ন দেখা মানুষকে উৎসাহিত করে নুতুন প্রতিভা বের করে আনার জন্য অনুপ্রাণিত করে এমন নেতৃত্ব আশা করছি।’