অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের দুর্দশা যেন কাটছেই না। খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী। দেশটির মুদ্রা রুপির মানও পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। গেল ৫০ বছরের মধ্যে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি। এবার এ সংকটের বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্য খাতে। কাঁচামালের অভাবে ওষুধের উৎপাদন নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। বর্তমানে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধও পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে কমতে প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। যে কারণে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনতে পারছেন না উৎপাদনকারীরা। আর তাই বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে স্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে ওষুধের অভাবে হাসপাতালের বিছানায় রোগীরা কাতরালেও, অস্ত্রোপচার করতে পারছেন না চিকিৎসকরা। তারা জানান, বর্তমানে অপারেশন থিয়েটারে মাত্র দুই সপ্তাহের চেতনানাশক ওষুধ রয়েছে। হার্ট, ক্যানসার এবং কিডনি রোগের মতো জটিল রোগের অস্ত্রোপচারের জন্য যা অত্যাবশ্যকীয়।
ওষুধের এ সংকটের জন্য বর্তমান আর্থিক সংকটকে দায়ী করছেন উৎপাদনকারীরা। তারা জানান, কাঁচামাল আমদানি করার জন্য এলসি ছাড়পত্র দিচ্ছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
পাকিস্তানের ওষুধ শিল্পের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। দেশটির মোট ওষুধের ৯৫ ভাগ কাঁচামালই ভারত, চীনসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু ডলার সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে করাচি বন্দরে আটকে রয়েছে কাঁচামাল। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি জানায়, সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই তা সমাধান করতে হবে।