পিএসজি পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালকে বেছে নিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। তাতে অনেকেই তার ইউরোপ অধ্যায়ের ইতি দেখলেও, এখনই শেষ দেখছেন না এ ব্রাজিলিয়ান তারকা।
সৌদি আরবের পাঠ চুকিয়ে আবারও ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক কোনো লিগে ফিরবেন নেইমার। সেখানে এক বছর খেলে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলবেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য। ব্রাজিলিয়ান সংবাদ মাধ্যম গ্লোবোর দাবি, এমনটাই ইচ্ছে সেলেসাও তারকার।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পথ ধরে অনেক তারকা ফুটবলারই পাড়ি দিচ্ছেন সৌদি আরবে। করিম বেনজেমা, সাদিও মানে, রবার্তো ফিরমিনো, কালিদু কৌলিবালি, রুবেন নেভেস, ম্যালকমরা যার বড় উদাহরণ। ইউরোপের মর্যাদাপূর্ণ লিগে খেলার চেয়ে সৌদি ক্লাবগুলোর মোটা অঙ্কের প্রস্তাব যে এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে তারকা খ্যাতির হিসেবে অনেকটা এগিয়ে থাকা নেইমার ৩১ বছর বয়সেই ইউরোপ অধ্যায়ের ইতি টানবেন এটা অনেকটা অকল্পনীয়ই ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দুই বছরের চুক্তিতে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে পাড়ি দিচ্ছেন নেইমার। খেলবেন ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। লেকিপ বলছে, সেখানে বছরপ্রতি নেইমারের পারিশ্রমিক হবে ১৬০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা)। দুই বছরে অঙ্কটা দাঁড়াচ্ছে ৩২০ মিলিয়ন ইউরো।
নেইমার অবশ্য শুধু অর্থের লোভেই সৌদিতে পাড়ি দিচ্ছেন না। মূলত যেকোনো উপায়ে তিনি পিএসজি ছাড়তে চাচ্ছিলেন। কারণ ক্লাব ও তার মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা দিন দিন বাড়ছিল। এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণও।
২০১৭ সালে দলবদলের বিশ্বরেকর্ড গড়ে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে দলে ভিড়িয়েছিল পিএসজি। ফরাসি ক্লাবটিকে অধরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা এনে দেয়ার অঙ্গীকার করলেও গত ছয় বছরে একবার ফাইনালে তোলা ছাড়া এই শিরোপার ধারে কাছে দলকে নিতে পারেননি নেইমার। এছাড়া একের পর এক ইনজুরি ও অপেশাদারি আচরণ তাকে ক্লাবটির মালিকপক্ষ ও সমর্থকদের কাছে চক্ষুশূলে পরিণত করেছে। তাই ভালো অঙ্কের প্রস্তাব পেলেই তাকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিল ক্লাবটি। অন্যদিকে নেইমারও আর পিএসজিতে থাকতে চাননি।
নেইমারের চাওয়া ছিল সাবেক ক্লাব বার্সেলোনায় ফেরা। তবে আর্থিক দৈন্যদশায় দিন কাটানো কাতালানদের পক্ষে এখন ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। একটা উপায় ছিল লোনে দলে ভেড়ানোর। কিন্তু তাতে রাজি ছিল না পিএসজি। তাছাড়া বার্সা কোচ জাভি হার্নান্দেজও নেইমারকে নিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসি আগ্রহ দেখালেও, অর্থের প্রস্তাবটা পছন্দ হয়নি পিএসজির। একই সময়ে আল হিলাল থেকে পাওয়া মোটা অঙ্কের প্রস্তাব না করতে পারেনি প্যারিসের ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত রাজি হয়ে যান নেইমারও। অন্য কোনো উপায়ও ছিল না ব্রাজিলিয়ান তারকার। কারণ ২০২৫ সাল পর্যন্ত ফরাসি ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি তার। এর আগে ক্লাবের সম্মতি ছাড়া দলবদল সম্ভব হতো না তার জন্য।
তবে পিএসজি ছেড়ে সৌদিতে পাড়ি দিলেও এখনই ইউরোপ অধ্যায় শেষ করতে চান না নেইমার। তার ইচ্ছে, আল হিলালের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি শেষ করে আবার ফিরবেন ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক লিগে। তার পরিকল্পনার পুরোটা জুড়ে এখন ২০২৬ বিশ্বকাপ। সেলেসাওদের হয়ে যেটা তার শেষ বিশ্ব আসর। তার আগে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে এক বছর ইউরোপের বড় লিগে খেলতে চান নেইমার।