বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় আরসা’র ৪৫০ সন্ত্রাসী

  • Update Time : শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩
  • ৭৮ Time View

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে সক্রিয় রয়েছে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি আরসা’র ৪৫০ সন্ত্রাসী। যারা দীর্ঘ দিন ধরে গহীন পাহাড়ে আস্তানা তৈরি করে টর্চার সেল গড়ে তুলে অপহরণ, নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় ছাড়াও হত্যার পর মরদেহ গুম করে আসছে।

সেই গহীন পাহাড়ের আস্তানা থেকে আরসা’র সামরিক কমান্ডারসহ ছয় সদস্যকে গ্রেফতারের পর শনিবার (২২ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। গ্রেফতারের সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাতটি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও নগদ টাকা।


শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার গহীন পাহাড়ে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সার্বিক বিষয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় র‌্যাব-১৫ এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানিয়েছেন, টেকনাফের গহীন পাহাড়টিতে আরসা সন্ত্রাসীরা গোপন আস্তানা তৈরি করে ‘টর্চার সেল’ গড়ে তুলেছিল। ওখানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো হয় এ অভিযান।
এতে গ্রেফতার আরসার সামরিক কমান্ডার হাফেজ নুর মোহাম্মদ (২৮) কুতুপালং ক্যাম্পের দিল মোহাম্মদের ছেলে।

গ্রেফতার হওয়া অপর পাঁচ আরসা সদস্য হলেন-ধলা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হোসেন জোহার (৩০), ওবায়দুর রহমানের ছেলে মো. ফারুক হারেস (২৩), জমলুকের ছেলে মনির আহাম্মদ (৩৬), অলি আহমদের ছেলে নূর ইসলাম (২৯), হোসেনের ছেলে মো. ইয়াছিন (২১)।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার, একটি শর্টগান, চারটি দেশীয় তৈরি এলজি, তিনটি দেশীয় রামদা, গুলিসহ নগদ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, আরসার গোপন আস্তানার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে প্রথমে আরসা’র শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের অন্যতম সামরিক কমান্ডার হাফেজ নুর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র ও গুলি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা খুন ও অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

তিনি জানান, হাফেজ নুর মোহাম্মদের আরসা’র ৩০-৩৫ জন সদস্য কুতুপালং ক্যাম্প ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তারা পার্শ্ববর্তী দেশ হতে দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান করতো বলে জানা যায়। হাফেজ নুর মোহাম্মদ তার দলের সদস্যদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে খুন, অপহরণ ও গুমের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করতো। চাঁদার অর্থ না পেলে অপহরণ শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতনসহ মুক্তিপণ আদায় করত। মুক্তিপণ না পেলে তারা খুন করে গহীন পাহাড়ে অথবা জঙ্গলে লাশ গুম করতো বলে জানা যায়।
মনির আহাম্মদ, নূর ইসলাম এবং ইয়াছিন পাহাড়ে অবস্থিত গোপন আরসা ঘাঁটির নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতো। যেখানে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

এ ব্যাপারে মামলা করে গ্রেফতারদের টেকনাফ থানায় সোপর্দ করার কথা জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category