টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে যেন ভুলই করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের তোপে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে প্রোটিয়ারা। প্রতিরোধ গড়ে তুলেন হেইনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। ক্লাসেন ফিফটির আফসোস নিয়ে মাঠ ছাড়লেও সেঞ্চুরি তুলে নেন মিলার। কিন্তু তারপরও লড়াকু পুঁজির দেখা পায়নি বাভুমার দল।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২১২ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফাইনালে যেতে ওভারপ্রতি মাত্র ৪.২৬ রান প্রয়োজন অজিদের।১১৬ বল মোকাবিলায় ১০১ রান করেন মিলার। ক্লাসের ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান। ৩টি করে উইকেট তুলে নেন মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। জোড়া উইকেট জশ হ্যাজেলউড ও ট্রাভিস হেডের।
ইডেনের আজকের আবহাওয়া বিবেচনায় টস জিতে ফিল্ডিং নেয়াটাই ছিল যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। সেটা জানতেন প্রোটিয়া অধিনায়ক বাভুমাও। কিন্তু প্রথমে ব্যাট করলে চাপহীন থেকে খেলতে পারবে, এমন বিবেচনায় আবহাওয়াকে তোয়াক্কা না করে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাভুমা। তবে আবহাওয়ার চেয়েও এদিন বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল অজি বোলাররা। প্রথম থেকেই প্রোটিয়াদের চেপে ধরেন স্টার্ক-হ্যাজেলউড। রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরের পথ ধরেন বাভুমা। মিচেল স্টার্ক আর জশ হ্যাজেলউডের গতি ও সুইংয়ে কাবু হয়ে এরপর একে একে সাজঘরের পথ ধরেন কুইন্টন ডি কক (৩), রসি ফন ডার ডুসেন (৬) ও এইডেন মারক্রাম (১০)।
মাত্র ২৪ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে প্রোটিয়ারা। পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন হেইনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। অজি পেসারদের তোপ সামলে দুজনে গড়েন ৯৫ রানের জুটি। দলীয় ১১৯ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। পার্ট টাইম বোলার ট্রাভিস হেডের স্পিনে পরাস্ত হন ক্লাসেন। ৪৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ রান করে বোল্ড হন তিনি। ক্রিজে এসে এ স্পিনারকে সামলাতে ব্যর্থ হন মার্কো ইয়ানসেনও। প্রথম বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান মিলার। সপ্তম উইকেটে তাকে সঙ্গ দেন জেরাল্ড কোয়েতজি। তার সঙ্গে ৫৩ রানের জুটি গড়েন মিলার। কিন্তু আক্ষেপে পুড়ে ৪৪তম ওভারে মাঠ ছাড়তে হয় কোয়েতজিকে। প্যাট কামিন্সের করা স্লোয়ার বাউন্স তার গ্লাভস অতিক্রম করে বাহুতে আলতো স্পর্শ করে জশ ইংলিসের হাতে যায়। ইংলিস-কামিন্সের আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তুলেন ফিল্ড আম্পায়ার নিতিন মেনন। সংশয় থাকায় রিভিউ নিতে মিলারের পরামর্শ নেন কোয়েতজি। কিন্তু তিনি না করে দেন। পরক্ষণেই টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায় বল তার গ্লাভস নয়, বাহু স্পর্শ করে উইকেটরক্ষকের হাতে গিয়েছিল।
এরপর ক্রিজে এসে মিলারকে সঙ্গ দিতে পারেননি কেশভ মহারাজ। ৮ বলে ৪ রান করে স্টার্কের শিকার হন তিনি। একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেন মিলার। শেষ পর্যন্ত ১১৬ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ১০১ রান করে কামিন্স ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে হেডের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৪৭.২ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে দলের রান তখন ২০৩। শেষদিকে কাগিসো রাবাদার ১২ বলে ১০ রানের ইনিংসে সংগ্রহ ২১২ রানে পৌঁছায় প্রোটিয়াদের।