সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

মলদোভায় ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা ইউরোপীয় বিমান সংস্থার

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ২৯৫ Time View

ইউক্রেন ও রোমানিয়ার প্রতিবেশী মলদোভায় ফ্লাইট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে স্বল্প ব্যয়ে বিমান সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান উইজএয়ার। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মলদোভাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৪ মার্চ থেকে তার আর মলদোভায় কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করবে না।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

উইজএয়ার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে মলদোভার আকাশসীমাকে আমরা নিরাপদ বলে বিবেচনা করছি না। তাই আগামী ১৪ ই মার্চ থেকে চিসিনাউতে সমস্ত ফ্লাইট স্থগিত করা হবে।’ প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বলতে কি বুঝিয়েছে তা স্পষ্ট করেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মলদোভায় রুশ আক্রমণের আশঙ্কা থেকে এমনটা করা হতে পারে।

মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু বলেছেন, রাশিয়া গোয়েন্দাদের ব্যবহার করে তার দেশে জনগণের মধ্যে আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। তবে তার আগে পুতিন অভিযোগ করেছিলেন, ইউক্রেন মলদোভায় থাকা রুশ ঘাঁটিতে আক্রমণ চালাতে পারে। তার এ দাবির পর আশঙ্কা আরও পোক্ত হয় যে, রাশিয়া কি তবে মলদোভাকেও ক্রিমিয়ার মতো সংযুক্ত করে নেবে?
গত সপ্তাহে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে মাইয়া সান্দুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মলদোভার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সহায়তা দিয়ে যাবে। তারপর বরং আশঙ্কা আরও দৃঢ় হয়েছে যে, মলদোভায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি রাশিয়া সহ্য করবে কি না। এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখছেন, পুতিনের পরবর্তী টার্গেট কি তবে মলদোভা।

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, তার গোয়েন্দারা মলদোভার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার রুশ পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মলদোভা বেশকিছু সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক সংকট, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ নানা কারণে চাপের ‍মুখে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তার পরপরই রুশপন্থি বিরোধী রাজনীতিবিদরা রাজধানী চিসিনাউয়ের রাস্তায় নেমে আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে।

এরই মধ্যে মলদোভার প্রেসিডেন্ট সান্দু সরাসরি রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, মস্কো মলদোভায় চলমান রাজনৈতিক সংকটের ফায়দা উঠানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেছেন, ‘সরকার শেষ পর্যন্ত কিছু ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়া যেসব অন্তর্ঘাতী বেসামরিক ছদ্মবেশ নিয়ে নাশকতা করে যাচ্ছে তাদের চিহ্নত করা।’ এ সময় সান্দু দাবি করেন, ‘তথাকথিত বিরোধী হিসেবে ছদ্মবেশ নেয়া ব্যক্তিরা সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চিসিনাউতে ক্ষমতার পরিবর্তনের জোর চেষ্টা করে যাচ্ছিল।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category