নাটোর জজকোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মুক্তার হোসেন জানান, প্রথমবারের মতো নাটোর জেলা প্রশাসন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে ৬ মাসের জন্য লালপুর ইউনিয়নে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেয়। তারপরও প্রায় ২০ বছর ধরে এই বালু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছে চারজনের সিন্ডিকেট। স্থানীয় প্রশাসন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় গণমাধ্যমে সংবাদের ভিত্তিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ ২০২২ সালের ১৪ এপ্রিল বালু উত্তোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
পিবিআইয়ের অনুসন্ধানে অবৈধভাবে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক আশরাফুন্নাহার ররীটার আদালতে বিচারকাজ চলছে বলে জানান জজকোর্টের এ আইনজীবী।
অ্যাডভোকেট মুক্তার হোসেন বলেন, এই চারজনের পাশাপাশি ইজাদারও নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু উত্তোলন করছেন। এ ছাড়া ইশ্বরদী ইউনিয়নে পদ্মা নদীতে আবু সাঈদ টুটুলে বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় আশরাফ আলী, মাসুদ অভিযোগ করেন, ঈশ্বরদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন নিয়ে নদীতে চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন টুটুল। নদীতে নামলেই চাঁদা দিতে হয়। কৃষকদের হামলার শিকার হতে হয়।
তবে অভিযুক্ত আবু সাঈদ টুটুল বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি অভিযোগগুলো সঠিক তদন্তের দাবি জানান।
বালু উত্তোলনের ইজারাদার সামিউল ইসলাম বলেন, ইজারার নির্ধারিত সীমানার বাইরে তিনি বালু উত্তোলন করেননি। বৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে উল্টো সন্ত্রাসীরা তার কাছে চাঁদা দাবি করেছে বলে দাবি করে।
নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ রঞ্জু বলেন, তিনি বালু উত্তোলনের অনুমতি দেননি। আগের চেয়ারম্যানদের ধারাবাহিকতায় ঘাটের পারাপারে ইজারা দিলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে অভিযান অব্যাহত আছে। আর নতুন করে অনুসন্ধান চালিয়ে নতুন বালুমহাল ইজারা দেয়া হবে। আর নদীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও নৌপুলিশের যৌথভাবে কাজ শুরু করবে।