ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপে খেলা নিয়েই শঙ্কায় ছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে শেষ পর্যন্ত ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে তো খেলেছেনই, ফাইনালে স্টেডিয়ামে হাজির ভারতের লক্ষাধিক দর্শককে কাঁদিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চ্যাম্পিয়নও করেছেন এই অজি ব্যাটার। বিশ্বকাপ ফাইনালে রান তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে সেঞ্চুরির নজির গড়েছিলেন হেড। হয়েছিলেন ম্যান অব দ্য ফাইনাল। এমন দারুণই কাটিয়েছেন নভেম্বর মাসটা।
মাস সেরা হওয়ার পথে হেড পেছনে ফেলেছেন স্বদেশি মারকুটে ব্যাটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামিকে। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়েছিলেন মোহাম্মদ শামি। আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিপদের মুহূর্তে খেলেছিলেন ২০০ রানের ইনিংস, যাকে ওয়ানডে ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ইনিংস বলে স্বীকৃতি দিচ্ছেন অনেকেই।
তবে তাদের পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মাসসেরা হয়েছেন হেড। বাঁহাতি এই ব্যাটার নভেম্বর মাসে একটি করে অর্ধশতক ও শতকে ২২০ রান করেছেন। মাস সেরা হওয়া হেড তার এই সাফল্যের জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যারা গোটা বছর জুড়ে দারুণ সাফল্য পেতে তাকে সাহায্য করেছেন।
তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য ১২টা মাস কাটল এমন একটা দলের, যার সদস্য হিসেবে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। যেভাবে আমরা ঘরের মাঠে গ্রীষ্মকাল কাটিয়ে, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বিশ্বকাপে পরিচালিত হয়েছি, তার পুরো কৃতিত্ব প্যাটের (কামিন্স), খেলোয়াড়দের এবং স্টাফদের।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমি ভাগ্যবান যে, হাত ভেঙে ফেলার পরেও তারা আমার ওপর বিশ্বকাপে বিশ্বাস রেখেছে, তাই এটা আমার জন্য দারুণ সুযোগ ছিল তাদের প্রত্যাশার প্রতিদান দেওয়ার। বিশ্বকাপে ব্যাট করার সময় আমার মনে হয়েছে আমি আমার ক্যারিয়ারের সেরা ব্যাটিং করছি। তাই আমার মনে হয় প্রতিটি ক্যাম্পেইনের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম সাফল্যের চাবিকাঠি।’
নভেম্বরে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি দারুণ ইনিংস খেলেছেন হেড। সেমিফাইনালে ৪৮ বলে ৬২ রানের ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অজিদের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। তার আগে বল হাতে হেইনরিখ ক্লাসেন ও মার্কো ইয়ানসেনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুটি তুলে নিয়ে প্রোটিয়াদের অল্প রানে বেঁধে রাখেন।
এরপর ফাইনালেও দুরন্ত রোহিত শর্মাকে ফেরান অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে। এরপর ব্যাট করতে নেমে অজিরা যখন ৪৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে, তখন ১২০ বলে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেন। ১৫টি চার ও ৪টি ছয়ে ম্যাচজয়ী ইনিংসটি খেলেন তিনি।
দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে হেড মাসসেরার পুরস্কারটি জিতলেন। তার আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে ডেভিড ওয়ার্নার মাসসেরা হয়েছিলেন।